আগামীর চোখ
আগে নিয়োগ পরে গোয়েন্দাগিরি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ড
সামান্য ঝড়েই দৃশ্যপট থেকে উধাও হয়ে যায় বিদ্যুৎ। তারপর ঝড় শেষে উধাও হয়ে যায় আপনার কর্মীরা। কিন্তু ‘ভুতুড়ে বিল’ রূপে গ্রাহকের ঘাড়ে চাপতে ভুল হয় না। নতুন সংযোগ প্রদান আর লাইন মেরামতের নামে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় দালালদের সমন্বয়ে নজরানা মানে ঘুষবাণিজ্য তো রয়েছেই। এসব নিয়ে আপনার নীরবতায় তেমন আশ্চর্য হই না কখনো। কেননা, এ দেশে দুর্নীতিই মহান নীতি। নীতিবানদের মুখে মুখে কথা বলতে নেই। পত্রপাঠে হাইকোর্ট দেখিয়ে দেবেন।
কিন্তু ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন জুনিয়র কর্মকর্তার চাকরি খাওয়ার খবরে বেশ অবাক হলাম। বড় অদ্ভুত এক যুক্তিতে চাকরি খেয়ে ফেলা হলো। স্থায়ী ঠিকানার জায়গায় বর্তমান ঠিকানা লেখাই ছিল তার অপরাধ। ভদ্রলোক এর মধ্যে সাত মাস চাকরি করেছেন। এত মাস খাটানোর পর কী এমন হলো যে, মনের মধ্যে ‘ফেলু গোয়েন্দা’ জেগে উঠল? এটা তো দেখি ‘আগে নিয়োগ, পরে গোয়েন্দাগিরি’ নীতি! সব জায়গায় আপনাদের দেরিতে আসাই অভ্যেস, তাই বলে নিজের কর্মকর্তার ক্ষেত্রেও নিয়ম বদলাবেন না! অবশ্য অনিয়ম আইনত দণ্ডনীয়।
এত মাস খাটানোর পর কী এমন হলো যে, মনের মধ্যে ‘ফেলু গোয়েন্দা’ জেগে উঠল?
আবিদ চাকরি যাওয়ার মতো কোনো অপরাধ করেননি। চাকরির আবেদনের স্থায়ী ঠিকানার কলামে বর্তমান বসবাসের ঠিকানা লেখা কোনো অপরাধ নয়। জাতীয় পরিচয়পত্রেও তার এ ঠিকানা দেওয়া। এলাকার কাউন্সিলরও তাকে নাগরিকত্বের সনদ দিয়েছেন একই ঠিকানা দেখে। কিন্তু পরে পুলিশ ভেরিফিকেশনে আবিদের স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যায়নি দেখে হামলে পড়লেন তার চাকরির ওপর। আপনাদের জ্ঞানগরিমার মাত্রা দেখে অবাক না হয়ে পারি না। সরকারিভাবে যেখানে জাতীয় পরিচয়পত্রের গুরুত্বই সর্বোচ্চ, সেখানে কীসের ভিত্তিতে আপনারা সিদ্ধান্ত নিলেন সেটি তার ঠিকানা নয়! এ বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ও কি আপনারা জানতেন না? বিচারপতি কাশেফা হোসেন ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের বেঞ্চ ২০২১ সালে এক রায়ে বলেছেন, ‘অন্য কোনো সমস্যা না থাকলে শুধু ঠিকানা-সংক্রান্ত একটি অসংগতির কারণে কেউ কোনো পদের নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন না। একজন ব্যক্তি সবসময় একই ঠিকানায় বসবাস করবেন— এটি অযৌক্তিক এবং দুর্বল চিন্তা। যেকোনো সময় যেকোনো কারণে যে কারও বসবাসের ঠিকানা বা স্থায়ী ঠিকানার পরিবর্তন হতে পারে।’
গ্রাহকদের কষ্ট দেন মানলাম, কিন্তু নিজের কর্মচারীদেরও কষ্ট দেবেন! তাহলে বিদ্যুতের খুঁটি ছাড়া আশপাশে তো কেউই রইবে না!
ইতি
এক গ্রাহক




