আগামীর চোখ
গোপন ‘সোর্স’ কোড

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রিয়
খুচরা ভাইডি
তোমার আবেগঘন পত্রটি পাঠ করে অত্যন্ত আপ্লুত হলাম। আজকালকার তরুণরা যেখানে টিকটক আর রিলস বানিয়ে সময় নষ্ট করছে, সেখানে তুমি যে ‘খুচরা’ অবস্থা থেকে একেবারে ‘পাইকারি’ মাদক কারবারি হওয়ার বিশাল স্বপ্ন দেখছ, তা প্রশংসার দাবি রাখে।
তবে ভাইডি, তুমি জানতে চেয়েছ এই লাইনে নাম কামাতে কী করা উচিত? কোনো সফল মোটিভেশনাল স্পিকারের মতো মিষ্টি কথায় ভোলানোর অভ্যাস আমার নেই। তাই সরাসরি কাজের কথায় আসি— আমাদের ফিল্ডে সফল হতে চাইলে ব্যবসার মূল টেকনিকটা তোমাকে শিখতে হবে। আর সেই গোপন মন্ত্র বা ‘গেম চেঞ্জার’ ট্রিকটি হলো: যেকোনো উপায়ে কিছুদিন পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করা!
বিশ্বাস করো বা না করো, এটাই এই পেশায় দ্রুত এগোনোর সেরা শর্টকাট। তুমি যদি আমাদের লাইনের উঠতি তারা ‘পিচ্চি রাজা’র জীবনকাহিনি শোনো, তবে চোখ কপালে উঠবে! মোহাম্মদপুরের এক সাধারণ গলি থেকে শুরু করে রাজত্ব কায়েম করার পেছনের মূল রহস্যটাই কিন্তু ছিল ওই ‘পুলিশের সোর্স’ হওয়া।
খালি পুরিয়া বেচে জীবন পার করো না। আজই কোনো এলাকায় ঢুকে পুলিশের সোর্স হিসেবে নাম লেখাও
সোর্স হিসেবে কিছুদিন কাজ করতে পারলে পুলিশ আর অপরাধী— উভয় জগতের নাড়িনক্ষত্র তোমার হাতের মুঠোয় চলে আসবে। কার কাছে কখন মাল যাচ্ছে, কোথায় অভিযান হবে— সব খবর থাকবে তোমার কাছে। তা ছাড়া ওপরতলার স্যারদের সঙ্গে হালকা চা-সিগারেটের সম্পর্ক গড়ে উঠলে একটু-আধটু ইয়াবা নিয়ে ধরা পড়লেও বেশিদিন আটক থাকতে হবে না; দুই মাস জেল খেটে বেরিয়ে এসেই আবার দ্বিগুণ উৎসাহে নেটওয়ার্ক বাড়ানো যাবে।
আরও এক ধাপ এগিয়ে ভাবো— একদিন যদি টেকনাফ থেকে বিশাল চালান এনে ধরাও পড়ো বা কোনো ঝামেলায় জেলেও যাও, এই সোর্স জীবনের খাতিরে তৈরি হওয়া খাতিরটাই তোমাকে প্রিজনভ্যান থেকে উদ্ধার করবে! এসআই নিজেই তোমাকে পালানোর পথ অল-ক্লিয়ার করে দেবেন!
তাই খালি পুরিয়া বেচে জীবন পার করো না। আজই কোনো এলাকায় ঢুকে পুলিশের সোর্স হিসেবে নাম লেখাও। একটু বুদ্ধি খাটালে গুরুর মৃত্যুর পর পুরো ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ, ডজন ডজন ফ্ল্যাট-প্লট, এমনকি নিজস্ব অটোরিকশা সিন্ডিকেটও তোমার হবে। ৩০টি মামলা খাওয়াকে পদক হিসেবে দেখবে!
মনে রেখো, ভালো মাদক কারবারি হতে গেলে আগে ভালো সোর্স হতে হয়। শুভকামনা রইল, দ্রুত ‘পাইকারি’ জগতে তোমাকে দেখার অপেক্ষায়।
ইতি
তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী মাদক কারবারি বড় ভাই



