আগামীর চোখ
বুলডোজার যেন এটিএম মেশিন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রিয়
প্রশাসক, খুলনা সিটি করপোরেশন
পত্রিকার পাতা ওল্টাতেই একটি খবরে চোখ আটকে গেল। শিরোনাম পড়ে মনে হলো দুটি বুলডোজার আপনার গলার কাঁটা হয়ে আছে। কিন্তু ভেতরে চোখ বুলিয়ে দেখলাম— বুলডোজার গলার কাঁটা নয়, ‘এটিএম মেশিন’। আপনার প্রতিষ্ঠানের একদল কর্মকর্তার জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। এ দুই বুলডোজার মেরামতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যয় করেছেন ২২ লাখ ১০ হাজার টাকা! কিন্তু কাজের বেলায় লবডঙ্কা। মেরামতের নামে হচ্ছে দুর্নীতি। আমি আপনার নগরীর অতি সাধারণ এক বাসিন্দা। কিছু টাকা ট্যাক্স দিই আপনাকে। নিজের কষ্টার্জিত অর্থের এমন নয়ছয় দেখলে খারাপ লাগে। তাই বাধ্য হয়েই লিখছি। তা ছাড়া কথায় আছে— অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহ্য করে, দুজনই সমান অপরাধী। ভেবে দেখলাম, আমার অন্যায়ের পাল্লা তো খুব একটা ভারী নয়, কিছু না বললে আপনার সমকক্ষ হয়ে যেতে পারি! এই ভার তো বইতে পারব না!
আমরা সাধারণ মানুষ, কিছুটা বোকাও। ভাবতাম দুই কোটি টাকা দিয়ে কেনা দুটি বুলডোজার নগরীর ময়লা পরিষ্কার করে আমাদের স্বস্তি দেবে। কিন্তু আপনার দূরদর্শী যান্ত্রিক শাখা আমাদের ভুল প্রমাণ করেছে। তারা আমাদের শিখিয়েছে যে, মহামূল্যবান জিনিসের নড়াচড়া করতে নেই— তা এক জায়গায় স্থির থাকলেই তার মহিমা প্রকাশ পায়! গাড়ি দুটি সচল হয়ে নগরবাসীকে স্বস্তি দিক বা না দিক, আপনার যান্ত্রিক শাখার কিছু অসৎ কর্মকর্তার পকেটকে যে প্রতিনিয়ত তরতাজা ও পুষ্ট রাখছে, এটাইবা কম কীসের!
এদিকে বুলডোজার অচল থাকায় রাজবাঁধ এলাকায় বর্জ্যের যে রাজকীয় স্তূপ জমেছে, তা সামাল দিতে লং-বুম বা হুইলডোজার ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে জ্বালানি খরচ আর অতিরিক্ত সময়ের যে মহোৎসব চলছে, তা তো আমাদের ‘অপচয়বিলাসী’ নগর সংস্কৃতিরই অংশ। এক্ষেত্রে আমরা একই গোত্রে পড়ি।
বুলডোজারকেন্দ্রিক আপনার খরচের ফিরিস্তি দেখে ‘কুমিরের বাচ্চা ও শিয়ালপণ্ডিতে’র লোকগল্পের কথা মনে পড়ল। নিজের সাতটি বাচ্চাকে লেখাপড়া শেখানোর আশায় সরল বিশ্বাসে শিয়ালপণ্ডিতের কাছে দিয়ে এসেছিল কুমির। তারপর সুযোগ বুঝে ছয়টি বাচ্চা খেয়ে ফেলল শিয়াল। কুমির যেদিন বাচ্চাদের খবর নিতে এলো,
একটি বাচ্চাই বেঁচে ছিল। সেই একটিকেই সাতবার দেখিয়ে কুমিরকে বিদায় করল শিয়াল। আপনার দুটি বুলডোজার নিয়ে শিয়ালপণ্ডিতের কারবার চলছে। বারবার মেরামত ইস্যু দেখিয়ে শুধু বিলই তোলা হচ্ছে।
কাজে আর নামানো যাচ্ছে না।
ইতি
এক নগরবাসী




