আগামীর চোখ
অন্ধ ভবনে দেহ আলো

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
বাগেরহাট সদর উপজেলার ‘সমন্বিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষা কার্যক্রম’-এর দোতলা ভবনটির দিকে তাকালে শুধু আমি নই, এলাকার অধিকাংশ মানুষই আজ দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন। আপনাদের উদ্যোগে নির্মিত এ ভবনটির উদ্দেশ্য ছিল— যেসব শিশুর চোখে আলো নেই, তাদের জীবনের অন্ধকার দূর করতে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, কোটির বেশি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেই ভবনটি এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, ভবনটির ভেতরে পড়ে থাকা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের পড়াশোনার জন্য কিনে রাখা বিভিন্ন সরঞ্জামও নষ্ট হচ্ছে একটু একটু করে।
এখানে আজ একজন শিক্ষার্থীও নেই, নেই কোনো শিক্ষক কিংবা নৈশপ্রহরী। তিন বছর ধরে নিয়মিত সরকারি বরাদ্দ বন্ধ। দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বলছেন, বাগেরহাট শহর থেকে একটু দূরে হওয়ায় নাকি শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না।
আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলেই এই শিক্ষা কার্যক্রমটি আবার চালু করা সম্ভব— ঠিক যেভাবে চেষ্টা ও শ্রমের মাধ্যমে ভবনটির অনুমোদন এবং নির্মাণ সম্ভব হয়েছিল।
যাদের চোখের আলো নেই, দয়া করে তাদের জ্ঞানের আলো থেকে বঞ্চিত করবেন না
সরকারের এই মূল্যবান সম্পদ এবং জনগণের কষ্টে অর্জিত অর্থে তৈরি ভবনটি ধ্বংস হতে দেওয়া যায় না। যাদের চোখের আলো নেই, দয়া করে তাদের জ্ঞানের আলো থেকে বঞ্চিত করবেন না। ভবনটি যদি জনমানবহীন অবস্থায় জঙ্গলে পরিণত হয়, তবে এলাকার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
শুধু ভবন নির্মাণ করলেই তো দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না, শিক্ষার্থী সংকটের বিষয়টিও সমাধান করতে হয়। দেশে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিষয়টি এখনো বহুলভাবে প্রচলিত হয়নি। প্রচারণাও কম। সেক্ষেত্রে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থী সংগ্রহের কাজটি তো আপনারা করতেই পারেন। ছোটবেলায় দেখেছি, আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থী সংগ্রহ করতেন। কারণ অনেক অভিভাবক বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহী হতেন না। তাদের রাজি করাতে হতো। এখানেও অভিভাবকরা হয়তো ভরসা পাচ্ছেন না। আপনাদের সে ভরসার জায়গাটি তৈরি করতে হবে।
দয়া করে এ উদ্যোগটি এভাবে শেষ হতে দেবেন না। ভবনটি সংস্কারের ব্যবস্থা করুন, প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দিন এবং বরাদ্দ চালু করুন— মাঠপর্যায়ে কর্মী নামান। ভবনের দৃষ্টি ফেরান। তারপর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের ভর্তি নিশ্চিত করুন।
ইতি
স্থানীয় এক বাসিন্দা







