আমাদের দায় ও উত্তরণের উপায়

সংগৃহীত ছবি
আধা ঘণ্টা একনাগাড়ে বৃষ্টি হলেই আমাদের শহরের চেনা রূপ বদলে যায়। রাস্তায় পানি থইথই করে। অফিসগামী মানুষ, স্কুলের শিক্ষার্থী কিংবা জরুরি কাজে ছুটতে থাকা পথচারীকে নাকাল হতে হয়। কখনো কখনো এই ভোগান্তি রূপ নেয় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। গত বছরের আগস্ট মাসের একটি ঘটনার কথা আমরা অনেকেই হয়তো ভুলে গেছি। গাজীপুরের টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকায় বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে খোলা ড্রেনে পড়ে নিখোঁজ হন ফারিয়া তাসনিম নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারী। তিন দিন পর শালিকচূড়া বিল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জলাবদ্ধতা এবং এ-সংক্রান্ত দুর্ঘটনার জন্য সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করা খুবই স্বাভাবিক। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নিয়মিত নালা বা খাল পরিষ্কার না করা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা এর প্রধান কারণ। ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন না করে শুধু রাস্তা উঁচু করার যে প্রবণতা, তাও জলাবদ্ধতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। কিন্তু এখানে একটি বড় প্রশ্ন থেকেই যায়। শুধু কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করে কি আমাদের নিজেদের দায় এড়ানোর সুযোগ আছে? একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের ভূমিকা নিয়েও এবার খোলামেলা কথা প্রয়োজন।
আমরা অনেকেই যত্রতত্র ময়লা ফেলতে অভ্যস্ত। হাতের ময়লাটি নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে না ফেলে অবলীলায় ড্রেনে বা রাস্তায় ছুড়ে ফেলি। এই ছোট ছোট প্লাস্টিক বর্জ্যই বৃষ্টির সময় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেও পানি সরতে পারে না, রাস্তায় জমতে শুরু করে। বাড়ির আশপাশের নালা পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রেও আমাদের চরম উদাসীনতা কাজ করে। নিজেদের ড্রেন আটকে গেলে আমরা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অপেক্ষায় বসে থাকি, অথচ বাড়ির সামনের ড্রেনটি সচল রাখলে যে নিজেদেরই সুবিধা, সেই সহজ কথাটি আমরা ভুলে যাই।
নাগরিক হিসেবে আমাদের অভ্যাসের পরিবর্তন ঘটাতে হবে। বুঝতে হবে, শহরটা আমাদের সবার। এলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করে নিজ নিজ এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা তদারকি করা যেতে পারে। কোথাও কোনো ড্রেনের ঢাকনা ভাঙা বা খোলা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার আগে অন্তত সাময়িকভাবে সেখানে একটি লাল পতাকা বা সতর্কচিহ্ন ঝুলিয়ে দেওয়ার মতো ছোট উদ্যোগও একজন মানুষের অমূল্য জীবন বাঁচাতে পারে। পরিশেষে বলা যায়, একটি বাসযোগ্য ও নিরাপদ শহর গড়ে তুলতে হলে প্রশাসন এবং নাগরিকের যৌথ উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।
লেখক: শিক্ষার্থী, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ, গাজীপুর




