গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো দরকার

ফাইল ছবি
সম্প্রতি দেশ জুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট গৃহস্থালি, পরিবহন ও শিল্প খাত স্থবির করে দিয়েছে। কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আমদানি-রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে; উদ্যোক্তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন এবং কর্মসংস্থান হারিয়ে বাড়ছে বেকারত্ব। আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য এটি এক বড় ধাক্কা।
কয়েক মাস আগে বৈশ্বিক উত্তেজনার কারণে সংকট দেখা দিলেও এবারের সংকটের উৎস সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ। মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সরবর বিপর্যয় ঘটেছে। দেশীয় বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিক পর্যায়ে ত্রুটি চিহ্নিত করতে না পারায় যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিশেষজ্ঞ আনতে হয়েছে। ফলে সাময়িক বলা হলেও এই সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
দৈনিক ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চাহিদার বিপরীতে দেশীয় সরবরাহ সক্ষমতা মাত্র ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ঘাটতি পূরণে বিগত সরকার দীর্ঘমেয়াদি স্বনির্ভরতার কৌশল উপেক্ষা করে শত শত কোটি ডলার ব্যয়ে বিদেশি এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। পরিতাপের বিষয়, বর্তমান সরকারও সেই একই ভুল নীতির পথে হাঁটছে।
আমদানি করা এলএনজি দিয়ে কোনো দেশের টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়— বর্তমান সংকটই তার বড় প্রমাণ। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে স্থলভাগের থমকে থাকা গ্যাস অনুসন্ধান দ্রুত বেগবান করার পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের গভীর ও অগভীর ব্লকে তেল-গ্যাস উত্তোলনে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে পাইপলাইনের অবৈধ সংযোগ ও সিস্টেম লস বন্ধে কঠোর হওয়া জরুরি। জাতীয় সম্পদের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধিই জ্বালানি খাতে স্বাবলম্বী হওয়ার একমাত্র উত্তম পথ।
লেখক: প্রিন্সিপাল অফিসার, জনতা ব্যাংক পিএলসি, ঢাকা




