জনমনে বাড়তে পারে ক্ষোভ

সংগৃহীত ছবি
এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ ও সরকারের তা ধাপে ধাপে কার্যকরের ঘোষণায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। এই স্বস্তির বিপরীতে জাতীয় অর্থনীতিতে সম্ভাব্য চাপ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
গ্রেড সংখ্যা আগের মতো ২০টি বহাল রেখে সর্বনিম্ন ধাপের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপের মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর করতে বছরে অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন। বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকারের ব্যাংকঋণ বেড়ে যাওয়ার স্পষ্ট ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এবারও যদি পে স্কেলের খবরে বাড়ি ভাড়া, পরিবহন খরচ এবং নিত্যপণ্যের দাম নতুন করে বেড়ে যায়, তবে সাধারণ মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস উঠবে। শুধু বেতন বাড়িয়ে কোনো দেশ টেকসই সেবা পেতে পারে না। অতীতে দেখা গেছে, বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে সরকারি সেবার মান বা সততার আনুপাতিক উন্নতি হয়নি। তাই নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি উঠেছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা যদি জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করতে না পারেন, তবে জনগণের করের টাকায় দেওয়া এই বর্ধিত বেতন জনমনে শুধু ক্ষোভ ও বৈষম্যের অনুভূতিই বাড়াবে।
লেখক: বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা, ঢাকা



