স্কুলে সংগীত শিক্ষক কেন জরুরি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
স্কুলশিক্ষা বলতে আমরা সাধারণত পাঠ্যবই, পরীক্ষা আর ফলাফলের কথাই বেশি ভাবি। কিন্তু একজন শিক্ষার্থীর পূর্ণাঙ্গ বিকাশ শুধু অ্যাকাডেমিক জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ নয়; তার মানসিক, সৃজনশীল ও নৈতিক বিকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ জায়গায় স্কুলের সংগীত শিক্ষক এক অনন্য ভূমিকা পালন করতে পারেন। সংগীত শিক্ষক শুধু গান শেখাবেন না, তিনি শিক্ষার্থীদের অনুভূতি প্রকাশের ভাষাও শেখাবেন। একটি সুন্দর সুর, একটি ছন্দময় গান একজন শিক্ষার্থীর মনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক সময় যে অনুভূতি কথায় প্রকাশ করা যায় না, তা সংগীতের মাধ্যমে সহজেই প্রকাশ করা সম্ভব। ফলে শিক্ষার্থীদের আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা বিকাশে সংগীত শিক্ষক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন। স্কুলে সংগীত শিক্ষার আরেকটি বড় দিক হলো, শৃঙ্খলা ও দলগত কাজ শেখানো। কোরাসে গান গাওয়া বা দলীয় পরিবেশনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে কাজ করার বিষয়টি আত্মস্থ করবে। সংগীত শিক্ষক তার প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ গুণের বিস্তার ঘটাবেন।
প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতা শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও প্রতিযোগিতার চাপে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। এক্ষেত্রে সংগীত তাদের জন্য একধরনের আশ্রয় হয়ে উঠতে পারে। এই আশ্রয় তৈরি করবেন স্কুলের সংগীত শিক্ষক।
প্রযুক্তি ও প্রতিযোগিতার চাপে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। এক্ষেত্রে সংগীত তাদের জন্য একধরনের আশ্রয় হয়ে উঠতে পারে
উন্নত দেশগুলোয় স্কুলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শুধু শিক্ষা সিলেবাসে সীমাবদ্ধ নয়। যেমন জাপানে স্কুলে শিক্ষকরা বাচ্চাদের পছন্দের বিষয় এবং ভবিষ্যতে তার কর্মপন্থা কী হবে, তা নির্ধারণ করে দেন।
তবে আমাদের দেশে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের ধারণা, গান-বাজনা আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপন্থী। কিন্তু আমাদের হচ্ছে জারি, সারি, ভাটিয়ালির দেশ। এ দেশের কৃষক, শ্রমিক, মাঝি গলা ছেড়ে গান গেয়ে আসছেন শতাব্দীর পর শতাব্দী। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ গানটি ঈদুল ফিতরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের অঘোষিত থিম সং। আর পূজা-পার্বণ, নতুন বর্ষবরণে গান তো রয়েছেই। বাংলাদেশ এমন এক দেশ, যেখানে মানুষের হৃদয়ে গান।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দক্ষ সংগীত শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ নিশ্চিত করা জরুরি। একজন সংগীত শিক্ষক নিঃশব্দে যে সুরের বীজ বপন করবেন, তা একদিন শিক্ষার্থীর জীবনে মানবিকতা ও সংবেদনশীলতার মহীরুহ হয়ে দাঁড়াবে।
লেখক: ব্যাংক কর্মকর্তা, ঢাকা




