বাস্তবায়নই আসল পরীক্ষা

সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রস্তাব অবশেষে মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে প্রারম্ভিক মূল বেতন গ্রেডভেদে ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য স্বস্তির খবর।
এই বেতন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দ্বিমত করার সুযোগ কম, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীরা সংসার চালাতে যে চাপের মুখে পড়েছিলেন, তা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার বিষয় ছিল।
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের যে কৌশল নেওয়া হয়েছে, তা অর্থনৈতিক দিক থেকে বিবেচনাপ্রসূত বলেই মনে হয়। একবারে সম্পূর্ণ বেতন কাঠামো কার্যকর করলে যে বিপুল আর্থিক চাপ সরকারি কোষাগারের ওপর পড়ত, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার একদিকে যেমন রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় নমনীয়তা রাখতে পারবে, অন্যদিকে বাজারে একসঙ্গে বিপুল অর্থ সরবরাহের ফলে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো একই হারে মজুরি সমন্বয় করতে না পারে, তাহলে আয়বৈষম্য আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে নতুন পে স্কেল ঘোষণার সুষ্ঠু ও সময়োপযোগী বাস্তবায়ন। তা যেন অহেতুক দীর্ঘায়িত না হয়। অতীতে অনেক ভালো সিদ্ধান্তও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় দীর্ঘসূত্রতার শিকার হয়েছে। এবার যেন তার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই প্রত্যাশা সবার।
লেখক: শিক্ষার্থী, জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়



