শুধু সংগীত নয় সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষক প্রয়োজন

সংগৃহীত ছবি
অনেকেই মনে করেন বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগই যথেষ্ট। এটা মনে রাখা জরুরি যে, শুধু সংগীত শিক্ষার মধ্যেই সাংস্কৃতিক চর্চা সীমাবদ্ধ নয়। সংস্কৃতির পরিধি অনেক বিস্তৃত। এর মধ্যে রয়েছে সাহিত্য, আবৃত্তি, নাটক, নৃত্য ও চিত্রকলা। তাই শুধু সংগীত শিক্ষক নয়; বরং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডবিষয়ক প্রশিক্ষক নিয়োগ করা প্রয়োজন। যিনি শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
সংগীত মানুষের হৃদয়কে কোমল ও সংবেদনশীল করে তোলে। সংগীতচর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌন্দর্যবোধ, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠবে। একইভাবে সাহিত্যচর্চা তাদের চিন্তার জগৎকে সমৃদ্ধ করবে, কল্পনাশক্তিকে বিকশিত ও ভাষাগত দক্ষতার উন্নতি ঘটাবে। একটি কবিতা, গল্প বা নাটকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জীবন, সমাজ ও মানুষ সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি অর্জন করতে পারবে। ফলে তারা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থী নয়; বরং একজন সচেতন ও চিন্তাশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, অসহিষ্ণুতা ও সামাজিক অস্থিরতা ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা অত্যন্ত জরুরি। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সাহিত্যচর্চা একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে সততা, দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা ও মানবিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। একজন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডবিষয়ক প্রশিক্ষক এসব বিষয় শিক্ষার্থীদের সামনে আকর্ষণীয় ও কার্যকর উপায়ে উপস্থাপন করতে পারবেন, যা প্রচলিত পাঠদানের মাধ্যমে সবসময় সম্ভব নয়।
জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার ক্ষেত্রেও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডবিষয়ক প্রশিক্ষকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন জাতীয় দিবস, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সাহিত্য সভা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে পরিচিত করবে। এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সাংস্কৃতিক ইন্সট্রাক্টর অপরিহার্য।
শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো, দক্ষতার সমন্বয়ে মানবিক মানুষ গড়া। সে লক্ষ্য অর্জনে শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সংগীত, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও নৈতিকতার সমন্বিত চর্চা। তাই বিদ্যালয়ে শুধু সংগীত শিক্ষক নিয়োগের পরিবর্তে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডবিষয়ক প্রশিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
লেখক : শিশুসাহিত্যিক ও সাংবাদিক




