দক্ষতাই চালকের পরিচয়

একজন নারী বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছেন। সামনে অসংখ্য বাস, চারপাশে মানুষের ভিড়। তার গন্তব্য কর্মস্থল, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল কিংবা বাজার। কিন্তু বাসে ওঠার আগে মনে আরেকটি প্রশ্ন জাগে— আজকের যাত্রাটি নিরাপদ তো? এই অদৃশ্য শঙ্কাই আমাদের গণপরিবহনের সবচেয়ে বড় অস্বস্তিকর সত্য। এ সংকট শুধু গণপরিবহনের নয়, নাগরিক মর্যাদারও। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ চালুর উদ্যোগ তাই স্বস্তিদায়ক। এখানে একটি প্রশ্ন আছে— নিরাপদে চলতে একজন নারী কি প্রতিবার বিশেষ বাসের অপেক্ষা করবেন? নাকি এমন গণপরিবহন গড়ে উঠবে, যেখানে বাসের রঙ নিরাপত্তার পরিচয় হবে না?
বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ নারী-পুরুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে ২৮(৪) অনুচ্ছেদ নারী বা শিশুর অনুকূলে বিশেষ বিধানের সুযোগ রেখেছে।
নারীর চলাচল কোনো নির্দিষ্ট রুটে সীমাবদ্ধ নয়। তাকে ভোরে কাজে যেতে হয়, সন্ধ্যায় ফিরতে হয়, প্রয়োজনে রাতেও বেরোতে হয়। তাই বিশেষ বাসের পাশাপাশি সাধারণ বাসের প্রতিটি রুটকে নিরাপদ করা জরুরি। কোন রুটে বেশি অভিযোগ, কোন সময়ে ঝুঁকি বাড়ে, কোথায় হয়রানি ঘটে— এসব তথ্যভিত্তিকভাবে বিশ্লেষণ করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
পিংক বাসে নারী চালকের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতাই চালকের পরিচয়। এখানে একটি বিষয়ে বলতে হয়। নারী চালকের নিরাপদ কর্মপরিবেশও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ, এটি শুধু কর্মসংস্থানের বিষয় নয়; এটি সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তনেরও বার্তা।
নারীর নিরাপত্তা বাসের দরজা দিয়ে শুরু বা শেষ হয় না। বাসস্ট্যান্ড, ফুটপাত, অপেক্ষার স্থান, সময়সূচি এবং জরুরি সহায়তা— সবই নিরাপদ যাত্রার অংশ। পাশাপাশি হয়রানির ঘটনায় সামাজিক নীরবতা ভাঙতে হবে।
আমরা পিংক বাস চাই, কারণ গণপরিবহনে নিরাপত্তার আজ ভীষণ প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন এক গণপরিবহন, যেখানে নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হবে না। যেদিন বাসে ওঠার সময় কোনো নারীকে নিরাপত্তার হিসাব কষতে হবে না, সেদিনই বদলাবে আমাদের শহরের চিত্র।
লেখক: কবি, ফেনী







