দুষ্টের দৌরাত্ম্য ও নাগরিক নিরাপত্তাহীনতা

প্রতীকী ছবি
বর্তমানে দেশব্যাপী দখলদারদের তাণ্ডব ও দৌরাত্ম্যে সাধারণ জনগণ চরম অতিষ্ঠ ও অসহায় হয়ে পড়েছে। ‘দখলবাজি’ বলতে মূলত পেশিশক্তি প্রয়োগ করে অন্যের জায়গাজমি, ঘরবাড়ি, ভূসম্পত্তি কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক নিজের কব্জায় নেওয়াকে বোঝায়। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বস্তি এলাকা, সরকারি কলোনি, নির্মাণাধীন বহুতল ভবন কিংবা যেকোনো বিতর্কিত সম্পত্তিতে স্থানীয় প্রভাবশালী, দুষ্কৃতকারী ও সন্ত্রাসীরা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে লিপ্ত হচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি দখলবাজির ঘটনার মূলেই জড়িয়ে রয়েছে চাঁদাবাজির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ স্বার্থ।
রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে কিংবা প্রভাব খাটিয়ে সম্পত্তি দখল, বাসাবাড়িতে হামলা, এমনকি সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানোর ঘটনায় দেশবাসী গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। এ ধরনের অন্যায় ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত দোষী ব্যক্তিদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা জরুরি। শুধু দখলবাজিই নয়; বর্তমানে দেশে ধর্ষণ, ছিনতাই, রাহাজানি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রতিহত করার কার্যকর উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
আইনের শাসন যখন দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন তার সরাসরি শিকার হয় দেশের সাধারণ মানুষ— যাদের হাতে কোনো ক্ষমতা নেই। রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হলো এই অসহায় নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা। অথচ রাষ্ট্র যখন দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা বা ব্যর্থতা প্রদর্শন করে, তখন তা সরকারের জন্য চরম অশনিসংকেত নিয়ে আসে।
অতীতের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে শুরু হওয়া এই দখলবাজি, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতি পরবর্তী রাজনৈতিক সরকারের আমলেও থেমে থাকেনি; বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে তা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পুলিশ বাহিনী আজও জনগণের সঠিক নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খাচ্ছে; এমনকি তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত।
আরও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো— অহেতুক হয়রানি, ‘মব ভায়োলেন্স’ এবং রাজনৈতিক সুবিধার্থে যে কাউকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ ট্যাগ দিয়ে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠছে।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী ও কলামিস্ট, ফরিদাবাদ-গেন্ডারিয়া, ঢাকা।



