স্বস্তির সঙ্গে থাকুক দায়িত্বও

সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদন নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। দীর্ঘ ১২ বছর পর আসা এই বেতন কাঠামোতে ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই মূল বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। ১ থেকে ১১তম গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং ১২ থেকে ২০তম গ্রেডে ১১৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার এবং প্রথম গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হচ্ছে।
ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির এ সময়ে সীমিত আয়ের কর্মচারীদের জন্য এটি বড় স্বস্তি আনবে। তবে শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বাড়লেই সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বস্তি আসে না; দেশের বিপুলসংখ্যক বেসরকারি চাকরিজীবী, গণমাধ্যমকর্মী, শ্রমিক, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয় বৃদ্ধির ওপরও সরকারের গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই টেকসই আয়ের মূল পথ।
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক খরচ হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা, যা থেকে উপকৃত হবেন প্রায় ২৪ লাখ কর্মরত ও সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী। পুরো বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তটি অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত সময়োপযোগী। তবে বাজার সরবরাহ ঠিক না থাকলে এই বাড়তি অর্থ পুনরায় মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করতে পারে। তাই বাজার তদারকি কঠোর করার পাশাপাশি অপচয় কমিয়ে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে।
সবশেষে রাষ্ট্রীয় সুবিধাপ্রাপ্তির সঙ্গে দায়িত্ববোধের প্রশ্নটিও যুক্ত। সরকারি কর্মচারীদের কাজের দক্ষতা, স্বচ্ছতা, সততা ও সেবার মান নিশ্চিত করা জরুরি। নতুন পে স্কেলের প্রকৃত সার্থকতা তখনই আসবে, যখন এটি শুধু সরকারি কর্মচারীদের স্বস্তি দেবে না; বরং নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আয় বাড়িয়ে একটি শক্তিশালী ও সুষম জাতীয় অর্থনীতি গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী, বগুড়া



