নির্বাচনে আ. লীগ নেই, তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাহিদা তুঙ্গে

সংগৃহীত ছবি
আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালটে নৌকা প্রতীক নেই। অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী আদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় দেশের অন্যতম দল আওয়ামী লীগ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছে না।
অতীতে অনেক সরকার অনেক দলকে নিষিদ্ধ করে শেষ পর্যন্ত দমিয়ে রাখতে পারেনি। শেখ হাসিনা সরকারের অন্তিম সময়ে জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
অথচ দলটি এবারের নির্বাচনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। জিয়াউর রহমানের আমলে ডেমোক্রেটিক লীগ ও কমিউনিস্ট পার্টিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
প্রশ্ন উঠেছে, আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী-সমর্থকেরা কী করবেন? আইনি বাধায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। কিন্তু কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের কদর বেড়েছে সব দলের কাছে।
আওয়ামী লীগের শক্ত প্রতিপক্ষ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কাছে দলটির দেশে থাকা নেতাকর্মীদের বেশ কদর বেড়েছে। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
ভোটের আশায় দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও নির্বাচনী প্রচারে পারতপক্ষে আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করেননি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের রক্ষায় নানামুখী অঙ্গীকারও করেছেন তারা।
আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোট পেতে রাজনৈতিক দলগুলোর চেষ্টা প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, যে কেউ নৌকা প্রতীকের সমর্থকদের ভোট চাইতেই পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতারা যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে এটা যায় না।
তবে ভিন্ন কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ মোহাম্মদ সাহান। তিনি একটি গণমাধ্যমকে বলেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তো ভোটার। সুতরাং রাজনৈতিক দলের নেতারা তাদের ভোট চাইতেই পারেন। এতে দোষ বা অন্যায়ের কিছু নেই। এটা একেবারেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
আওয়ামী লীগের সমর্থকরা কেন্দ্রে গেলে কোন প্রতীকে ভোট দেবেন– তা নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। তবে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে দলীয় সমর্থকদের মন্তব্য করতে দেখা যায় আওয়ামী লীগ দল নির্বাচনে না থাকায় প্রায় ৫০ শতাংশ নেতাকর্মী ভোটকেন্দ্রে যাবেন না । বিষয়টি কতটুকু সত্য সেটি এখান দেখার বিষয়।
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দৃষ্টিতে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা ভোট দিতে পারেনি। তাতে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল এবং এর দায় পড়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর।
আগামীকালের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হলে এর দায় পড়বে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর। এই যুক্তিতে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা ভোট বর্জন করবেন বলে মনে করেন দেশের বাইরে থাকা একাধিক নেতা।
দলীয় সমর্থক হলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেকেই গুম-খুনসহ অত্যাচার-নির্যাতনের ঘটনা মেনে নেননি। তাদের অনেকে হয়তো ভোট দিতে যাবেন। অবশ্য তারা গণভোটে ‘না’ ভোট দিতে পারেন। কারণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে সংবিধান আমূল বদলে যাবে বলে মনে করে আওয়ামী লীগ।



