মে দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বাণী
শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকার

সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেশ-বিদেশের সব শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
‘দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতির অগ্রগতিতে শ্রমজীবী মানুষের অবদান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করা এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব।’—উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেছেন, শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রমেই শিল্প, কৃষি ও অবকাঠামোর উন্নয়ন সম্ভব হয়। শ্রমবান্ধব নীতি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
১৮৮৬ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর হে মার্কেটে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে যেসব শ্রমিক প্রাণ দিয়েছিলেন তাদের স্মরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শ্রমিক অধিকার আদায়ে জীবন উৎসর্গকারীদের প্রতিও জানিয়েছেন গভীর শ্রদ্ধা।
তিনি জানিয়েছেন, শ্রমিকদের দেশের উন্নয়নের মূল শক্তি হিসেবে দেখতেন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার সময়েই বিদেশে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার তৈরি হয়, যা আজ দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময়ে শ্রম আইন সংস্কার, মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নানা সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছে বিএনপি সরকার।
‘বর্তমান সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার ৩৯টি কনভেনশন ও একটি প্রোটোকল অনুমোদন করেছে এবং সংস্থাটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখছে।’—উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শ্রমিকদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে ঈদুল ফিতরে। নিয়মিত মজুরি পর্যালোচনা, নারী-পুরুষ সমান মজুরি নিশ্চিত করা এবং প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য, শ্রমিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত হলেই একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জন সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
শেষে মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।



