Agamir Somoy E-Paper
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহে ছোটেন আইয়ুব
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় বিশ্লেষণ

ইরান যুদ্ধ : পাকিস্তানের শান্তি উদ্যোগে কি চীন যোগ দেবে?

আবিদ হুসাইন
agamir somoy
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:১৫
ইরান যুদ্ধ : পাকিস্তানের শান্তি উদ্যোগে কি চীন যোগ দেবে?

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারকে চীনের বেইজিংয়ে শুভেচ্ছা জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার মঙ্গলবার চীন সফরে যাবেন সে কথা সোমবারই নিশ্চিত করেছিল দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর কারণ সম্পর্কে বিবৃতিতে বলা হয়েছিল সেই চিরাচরিত কথা, আলোচনা হবে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়ে।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, উভয় পক্ষ আঞ্চলিক ঘটনাবলীর পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে গভীর আলোচনা করবে। এ আলোচনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে এমন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে, যা সব পরিস্থিতিতেই অটুট থাকে এবং তারা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করে।

কিন্তু দারের চীন সফর এমন এক সময়ে হলো যখন পাকিস্তান একটি ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে।

সম্প্রতি তুরস্ক, মিশর ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি বৈঠক আয়োজন করে পাকিস্তান। চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এ বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল এক মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা শুরু করা।

এই যুদ্ধ এখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, এর কারণে অস্থির হয়ে উঠেছে জ্বালানির বাজার এবং তৈরি করেছে বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি।

এ অবস্থায় দার ছুটলেন চীন। গত রবিবার যদিও ইসলামাবাদে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানোর সময় পিছলে পড়ে কাঁধে সূক্ষ্ম ফাটল ধরে তার। এজন্য তাকে চিকিৎসকরা বিশ্রাম নিতে বলেছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ উপেক্ষা করে তার চীন সফরের সিদ্ধান্তে বোঝা যায়, পাকিস্তান দ্রুত কিছু করতে চাইছে।

২৭ মার্চের এক ফোনালাপে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি শান্ত করতে ইসলামাবাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বেইজিং।

এই অবস্থানটি পুনরায় সমর্থন করেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং। তিনি বলেছেন, চীন উত্তেজনা কমানোর জন্য পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে প্রশংসা ও সমর্থন করে। পাকিস্তান ও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদার করে যৌথভাবে যুদ্ধবিরতি ও অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে প্রস্তুত তার দেশ।

বিশ্লেষকদের মতে, দার শুধু সৌজন্যমূলক সাক্ষাতের জন্য চীন সফর করেননি। এমন এক সময়ে এ সফর হলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘণ্টায় ঘণ্টায় যুদ্ধ নিয়ে দ্বিমুখী মন্তব্য করছেন। এখন এ সফর এবং ট্রাম্পের নানা মন্তব্য ছাপিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে একটি প্রশ্ন, তা হচ্ছে—ইসলামাবাদ কি বেইজিংকে কথার ফুলঝুরির বাইরে গিয়ে চলমান মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে রাজি করাতে পারবে?

উইলসন সেন্টারে পাকিস্তানের সাবেক ফেলো বাকির সাজ্জাদ সাইদের মতে, দারের এই সফরের লক্ষ্য হলো সম্প্রতি ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক সম্পর্কে চীনা নেতৃত্বকে অবহিত করা।

সাইদ মনে করছেন, এই সফর সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপের জন্য পাঁচ দফা প্রস্তাব সংশোধনেও ভূমিকা রাখবে। প্রস্তাবগুলো হলো—তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, আলোচনা পুনরায় শুরু, বেসামরিকদের সুরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং জাতিসংঘ সনদের প্রতি আনুগত্য।

‘গত সপ্তাহে এগুলো নিয়ে ওয়াং ই এবং দারের মধ্যে ফোনালাপ হয়। তবে এ সফরে এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়াটাই স্বাভাবিক। ফোনালাপটা প্রাথমিক আর সরাসরি সাক্ষাৎ অনেক বিষয়েই বিশদ আলোচনার সুযোগ তৈরি করে’, যোগ করেন এই বিশ্লেষক।

ইসলামাবাদের কায়েদে আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ইশতিয়াক আহমেদ এই সফরটিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন। তিনি বলেছেন, পাকিস্তান সাধারণত চীনকে আস্থায় রাখে, কারণ দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভিন্ন ভাবমূর্তির একটি স্থায়ী মিত্র।

এই অধ্যাপকের মতে, এটি হলো ধ্রুপদি মধ্যস্থতাকারীর আচরণ—একটি দেশ, যা অন্যদের মধ্যে সমঝোতা করাতে সাহায্য করার বিনিময়ে মাঝে মাঝে নিজের স্বার্থ ও প্রত্যাশার ইঙ্গিত দেয়। পাকিস্তান এখন প্রাসঙ্গিক থাকতে চেষ্টা করছে।

এদিকে ইসলামাবাদ ও বেইজিংয়ের সম্ভাব্য কূটনৈতিক ভূমিকার মধ্যে একটি সুস্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরেছেন ওয়াশিংটন ডিসির স্টিমসন সেন্টারের চায়না প্রোগ্রামের পরিচালক ইউন সান। তিনি এ বিষয় ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে পারে। কিন্তু চীন তা পারে না। চীন অধিকাংশ ফোনকলই উপসাগরীয় দেশ ও ইরানের সঙ্গে করেছে।

গ্যারান্টর কে হবে তা নিয়ে সংশয়

দারের সফরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে একটি এসেছে ভালি নাসেরের কাছ থেকে। যিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন সাবেক কর্মকর্তা এবং একজন শীর্ষস্থানীয় ইরান বিশেষজ্ঞ।

তিনি সোমবার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোনো চুক্তিতে নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি চেয়েছে। শোনা যাচ্ছে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চীনে যাচ্ছেন সম্ভাব্য চুক্তির জন্য গ্যারান্টর খুঁজতে। সম্ভবত এটি ইরানের শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দার চীনে যাওয়ার আগে অবশ্যই ওয়াশিংটন ও বেইজিং উভয়ের সঙ্গে এই ধারণার বিষয়ে কথা বলেছেন।

‘চীনের অবশ্যই গ্যারান্টি দেওয়ার নিশ্চয়তা নেই। তবে বেইজিং এখন কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সামনের সারিতে আছে’, যোগ করেন তিনি।

অধ্যাপক আহমেদ যদিও ওই ধারণার সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেছেন, বেইজিং তেহরানের জন্য গ্যারান্টর হিসেবে এগিয়ে আসবে—এটি যুক্তিহীন ধারণা।

তবে সাইদের মতে, বেইজিং ভালো অবস্থানে আছে এবং ক্রমেই এই প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্য গ্যারান্টর হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী। কারণ ইরানের সঙ্গে চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আছে এবং সব পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক মোটামুটি স্থিতিশীল। পাশাপাশি চীনের আর্থিক ও কূটনৈতিক প্রভাবও রয়েছে।

এ গবেষকের ধারণা, চীন নিরপেক্ষ দর্শক হিসেবে থাকবে না। বরং তারা চায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্থিতিশীল হয়ে তাদের মূল স্বার্থে সহায়তা করুক।

চীনের কী লাভ

গ্যারান্টরের ভূমিকায় না থাকলেও যুদ্ধ বন্ধ হওয়াটা চীনের জন্য লাভজনক।

ট্যাংকার ট্র্যাকিং কোম্পানি কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, চীন ২০২৫ সালে দৈনিক প্রায় ১.৩৮ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ইরান থেকে আমদানি করেছে, যা মোট আমদানির প্রায় ১২ শতাংশ।

এ অঞ্চলে হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল প্রতিদিন এই প্রণালীর মাধ্যমে পরিবহন করা হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি অনুমান করেছে, ২০২৫ সালে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল প্রতিদিন এই প্রণালীর মাধ্যমে গেছে, যার মধ্যে চীন ও ভারতে গেছে ৪৪%।
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা অনুমান করেছেন, চীনের ৪৫–৫০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি এই প্রণালীর মাধ্যমে হয়। তাই এ প্রণালীতে কোনো ব্যাঘাত চীনের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি।

ইউএস-চীন ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীন-ইরান মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৪১.২ বিলিয়ন ডলার।

২০২১ সালে ইরান ও চীন ২৫ বছরের কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি সই করে। যেখানে চীন ইরান থেকে ছাড়ে তেল পাওয়ার বিনিময়ে সর্বোচ্চ ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে বেশিরভাগ বিনিয়োগ এখনও বাস্তবায়িত হয়নি চীনা কোম্পানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে।

চীনের উদ্দেশ্য ‘স্পষ্ট’ কিন্তু স্বার্থপরের মতো বলে মন হচ্ছে সাইদের কাছে। তিনি বলেছেন, এগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষা করা, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এবং চায়না পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর (সিপিইসি) এর বিনিয়োগের সুরক্ষা এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বেইজিংয়ের ইমেজ উন্নত করা। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং তেলের উচ্চ মূল্য সরাসরি চীনের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

এই গবেষকের মতে, ইসলামাবাদের শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ চীনের জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ। এর মাধ্যমে বেইজিং সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে না জড়িয়েই উত্তেজনা কমাতে পারে।
কায়েদে আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আহমেদের মতে, চীনের দৃষ্টিভঙ্গি অধিক সাবধানী হচ্ছে। তারা প্রথমে পরিস্থিতি কোথায় যাচ্ছে তা মূল্যায়ন করবে। চূড়ান্তভাবে চীন চাইবে না ইরান ভেনেজুয়েলার মতো হয়ে যাক।

এই অধ্যাপকের মতে, ট্রাম্প, যত নির্মমই হোক, এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে বলেছেন, তারা ইরানি তেল চান। হরমুজ প্রণালীর বন্ধ হওয়া এশিয়া ও ইউরোপকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে ফেলেছে। চীনও সেই উত্তাপ টের পাবে।

সাইদ বলছেন, চীন সম্ভবত কূটনৈতিকভাবেই বিষয়টি দেখবে। তারা সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ এড়িয়ে যাবে।

অধ্যাপক আহমেদও তার সঙ্গে একমত। তিনি বলছেন, আমি মনে করি না চীন সামরিকভাবে কিছু করবে। কারণ অর্থনৈতিকভাবে তাদের বৃহত্তর স্বার্থ আছে। এখন তারা পাকিস্তানের কাছে তাদের প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে জানাবে।

নজর এখন ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের দিকে

ইরানের ওপর হামলার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত বেইজিং সফরের কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে তিনি এ সফর স্থগিত করেন। এখন বৈঠকটি ১৪ ও ১৫ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়েরও এ বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।

অধ্যাপক আহমেদের মতে, এই বৈঠকগুলো বৃহত্তর সমঝোতার বিষয়ে ইঙ্গিত দিতে পারে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে। প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা উপসাগরীয় এলাকায় পৌঁছেছে। আরও ২ হাজার ২০০ মেরিন সেনা ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে মার্কিন সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনেরও ২ হাজার সেনা।

ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বিভিন্ন সামরিক বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া পেন্টাগন ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও খবর বের হয়েছে।

চীনের হিসাব-নিকাশ

অধ্যাপক আহমেদ মনে করেন, চীনের এই অবস্থানের পেছনে বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থ নিহিত রয়েছে।

তার মতে, চীন নিজের স্বার্থেই চায় এ যুদ্ধ বন্ধ হোক। কারণ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর মতো চীনের সম্প্রসারণবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই।

এই অধ্যাপক বলছেন, তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগর ছাড়া অন্য কোথাও সামরিক সম্পৃক্ততায় বেইজিংয়ের খুব বেশি আগ্রহ নেই।

‘চীনের অন্য কোথাও সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকবে—এমনটা আশা করবেন না’, যোগ করেন তিনি।

তবে ভিন্নমত পোষণ করেছেন গবেষক সাইদ। তিনি বলেছেন, চীন আরও সক্রিয় অবস্থান নিতে পারে।

এ গবেষকের মতে, দীর্ঘস্থায়ী হরমুজ সংকট, অস্থিতিশীল ইরান, বা বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ—চীনের জন্য সরাসরি ক্ষতির কারণ হবে।

তখন আর ‘চীন নিরপেক্ষ দর্শক হয়ে থাকবে না’ বলে মনে করেন সাইদ।

সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে চীনের সম্পৃক্ততা নিয়ে গবেষণা করা সান অবশ্য বেইজিংয়ের ভূমিকাকে অতিরঞ্জিত করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, চীন অন্য দেশগুলোর ওপর মধ্যস্থতা চাপিয়ে দেয় না। মধ্যস্থতার সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে চীনের সচেতন থাকা দরকার—যদি এটি কাজ না করে, তাহলে কী হতে পারে সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

আলজাজিরা থেকে অনূদিত

পাকিস্তানচীনইরান যুদ্ধমধ্যস্থতা
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise