নগরে বাস টার্মিনাল
‘ধান কাটতে হবে দেখে যেন অপক্ব ধান কেটে না নিয়ে আসি’

সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘ সময় ধরে যানজটসহ অর্থনৈতিক, সামাজিক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবেশগত ক্ষতি যতটুকু করা সম্ভব সেটা আমরা করেছি। জ্বালানি অপচয়ে বায়ুদূষণের মধ্য দিয়ে আমরা জনস্বাস্থ্যের যে ক্ষতি করেছি, তা তো বলাই বাহুল্য। এখন যখন বাস টার্মিনালগুলো সরাতে সরকারপ্রধানসহ সবাই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, সরিয়ে ফেলার জন্য একটি সময় ঠিক করা হয়েছে; তখন আমি বলব, পরিকল্পিতভাবে সরানোর জন্য যা কিছু প্রয়োজন সেদিকে যেন নজর রাখা হয়।
প্রথমত, মনে রাখা দরকার বাস স্টপেজগুলো মাল্টিমোডাল ওরিয়েন্টেন্ড কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাখা প্রয়োজন। অর্থাৎ রেল থেকে নেমে যেন মানুষ বাসে উঠতে পারে। বাস থেকে নেমে যেন অন্যান্য যানবাহনের মাধ্যমে তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। এই যে পারস্পরিক মাল্টিমোডালিটির বিষয়টি রয়েছে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। পৃথিবীর যেকোনো দেশে আন্তঃনগরীর বাসগুলো থেকে নামলেই অন্যান্য মাধ্যমে আমার গন্তব্যে যেতে পারি। কিন্তু আমাদের এখানে আন্তঃনগরের বাস থেকে নেমে গন্তব্যে যাওয়ার ব্যবস্থাকে পরিষ্কার দেখি না। সেটা— মেট্রোরেল হোক, কমিউটার হোক, নদীপথ হোক, সার্কুলার বাস সার্ভিস বা অন্যান্য যান। সে ব্যবস্থা এখানে তৈরি না করতে পারলে সমস্যা আরও ভয়াবহ হবে।
আমাদের যে নতুন জায়গাগুলো নেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকার নিচ্ছে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় যেন স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশন, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে। কারণ, মাল্টিমোডালিটিকে নিশ্চিত করতে হবে। ওই পূর্বাচল থেকে নেমে মানুষ যেন তার গন্তব্যস্থলে সহজে যেতে পারে। মহাখালী যারা নামত তারা যদি পূর্বাচল থেকে বাড্ডা যেতে চায় তাহলে যেন সহজে যেতে পারে। সেই ব্যবস্থা করা না গেলে ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হবে। একই রকমভাবে এটাও মনে রাখা দরকার, বুড়িগঙ্গা বাঁচাতে আমাদের চামড়াশিল্প হাজারীবাগ থেকে সরিয়ে সাভার নিয়ে গেছি। কিন্তু এখন ওই এলাকাও পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছি। একইভাবে মহাখালীর যানজট ও পরিবেশ দূষণ যেন পূর্বাচলে নিয়ে না যাই।
তার মানে, যানগুলো আসা, সহজে পরিবহন করা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো কার্যক্রম পরিচালনার মতো ব্যবস্থা করা, সেখান থেকেই যাত্রী নিয়ে আবার চলে যাওয়া; সেই পুরো চক্রটি যথাযথভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা করতে হবে। সেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করে তারপর বাস্তবায়ন করতে হবে। অবকাঠামোগতভাবে এটি সুগম, সচল, যথাযথ করা যেমন জরুরি, তেমনই ওখান থেকে নেমে মানুষ তার ঘর ও কর্মস্থল পর্যন্ত পৌঁছানোর পরবর্তী যে কার্যক্রম, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। এই মুহূর্তে পূর্বাচলে মহাখালীরটা নিয়ে যেতে পারি। কিন্তু মহাখালী থেকে ঢাকার যে যোগাযোগব্যবস্থা, সেটি কি পূর্বাচল থেকে করা হচ্ছে? এ প্রশ্নটি করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, সিদ্ধান্তটা যেন জনগণের পক্ষে বাস্তবায়িত হয়। জনগণের কল্যাণে বাস্তবায়িত হয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে শুধু সে কারণে যেন না করা হয়। ধান কাটতে হবে দেখে যেন অপক্ব ধান কেটে না নিয়ে আসি।
লেখক: স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ





