সৌদিতে সাত বাংলাদেশি নিহত : গাড়িটি চালাচ্ছিলেন পাকিস্তানি, গতি ছিল ১৬০ কিমি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সৌদি আরবের মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সাত বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের সবার বাড়ি কক্সবাজার জেলায়। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল জানিয়েছে, যে গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে সেটি চালাচ্ছিলেন এক পাকিস্তানি। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতি ছিল ১৬০ কিমির কাছাকাছি।
গত শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে সৌদি আরবের আল-হিমনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে তিন পরিবারের ১৩ সদস্যকে বহনকারী একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন বাকি ছয়জন।
জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের পাঠানো এক প্রাথমিক প্রতিবেদনে হতাহত ব্যক্তিদের পরিচয় ও দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিরা হলেন—জিয়াউর রহমান, তার মেয়ে বুশরা এবং দুই ছেলে ইয়াসির ও ইয়াযান; আলম শাহের স্ত্রী সানজিদা ও মেয়ে ফারিয়া এবং ইলিয়াসের স্ত্রী আফসানা বিবি। নিহতদের মধ্যে জিয়াউর রহমানের পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মরদেহ আল-হিমনা জেনারেল হাসপাতাল ও খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন—জিয়াউর রহমানের স্ত্রী শাকিরা ও মেয়ে ইউসরা, আলম শাহ ও তার ছেলে ফয়সাল, ইলিয়াস এবং গফুর আলম।
আহতদের মধ্যে শাকিরা খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে, ইউসরা জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ হাসপাতালে এবং ফয়সাল ইস্ট জেদ্দা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, আলম শাহ ও ইলিয়াস আল-হিমনা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। গফুর আলম খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয় বাংলাদেশ কনস্যুলেট। সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি কনস্যুলেটের কাউন্সেলর (শ্রম) একজন আইন সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে খোলাইস ট্রাফিক অফিস পরিদর্শন করেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
কনস্যুলেটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন একজন পাকিস্তানি নাগরিক। ট্রাফিক অফিসের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটির গতি ছিল ঘণ্টায় আনুমানিক ১৬০ কিলোমিটার। তাদের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত গতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি উল্টে যায়।
তবে চালকের দাবি, গাড়ির টায়ার ফেটে যাওয়ার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে সৌদি কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিহত আফসানা বিবি কয়েক দিন আগে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় হতাহত তিন পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চারজন সৌদি আরবের আল-আবির কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। কোম্পানিটির মক্কা শাখার ব্যবস্থাপক সালমানের কাছ থেকে কনস্যুলেট এ তথ্য পেয়েছে।




