দুর্নীতিকে দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলতে হবে: মির্জা ফখরুল

বক্তব্য দিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
দেশের সার্বিক ও টেকসই উন্নয়নে দুর্নীতি নির্মূলের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে দুর্নীতিকে দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলতে হবে।
আজ সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।
মন্ত্রীর ভাষ্য, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আত্মনির্ভরশীল হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে, নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে, দুর্নীতিকে দৃঢ়ভাবে না বলতে হবে।
মির্জা ফখরুল বললেন, গ্রামাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ছাড়া বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে সরকার দেশের রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোর উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, জনগণের আয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত না হলে প্রকৃত উন্নয়ন অর্জন সম্ভব হবে না।
তিনি যোগ করেন, বিগত সময়ে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডকে (বিআরডিবি) কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল এবং প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিআরডিবিকে একটি আধুনিক, কার্যকর ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে— যাতে এটি গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সভার শুরুতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিআরডিবি মহাপরিচালক একেএম তারেক। পরে বিভিন্ন সফল উদ্যোক্তা তাদের উদ্যোক্তা জীবনের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও সফলতার গল্প তুলে ধরেন। তারা সরকারের সহায়তা এবং নিজস্ব উদ্যোগের মাধ্যমে কীভাবে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন, তাও উপস্থিত সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব শওকত রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
পরে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রাঙ্গণে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার স্টল পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে একটি র্যালি বের হয়ে মিলনায়তন প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে।





