কর্ণফুলী টানেলের আয় ৩ কোটি, ব্যয় ৬ কোটি : সংসদে সেতুমন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেলে প্রতি মাসে যে টাকা আয় হয়, তার দ্বিগুন পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, টোল থেকে প্রতি মাসে গড়ে তিন কোটি ৩৬ লাখ ৫১ হাজার ৯০০ টাকা আয় হয়। আর ব্যয় হয় ৬ কোটি ৯৫ লাখ ১৮ হাজার ৬৯১ টাকা।
ব্যায়ের এই বৃহৎ খাতগুলোর কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, টানেলের ভেতরে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ, লাইটিং, বায়ু চলাচল, অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সিসিটিভি ও ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ।
সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এসব তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
মন্ত্রী বলেছেন, কর্ণফুলী চালু হওয়ার পর প্রাথমিক পর্যায়ে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে দৈনিক প্রায় ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় ছিল। বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা, কৃচ্ছসাধণ নীতি এবং সেতু কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টার ফলে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যয় হ্রাস করে দৈনিক ২২-২৩ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
এ টানেল লাভজনক করতে সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
সংরক্ষিত মহিলা-৪০ আসনের সদস্য মোসা. নাজমুন নাহারের প্রশ্নের জবাবে সড়কমন্ত্রী বলেছেন, যানজট নিরসনের জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত ২০.৫ কিলোমিটার করিডোরে দেশের প্রথম বিআরটি দ্রুত চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
‘প্রকল্পটি কীভাবে উন্নত করে জনগণের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে’, যোগ করেন সড়কমন্ত্রী।
ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে সড়কমন্ত্রী বলেছেন, মহসড়কে বেপরোয়া গাড়ি চালানো বা বিশৃঙ্খলা রোধ, গণপরিবহনের নিরাপত্তা, অবস্থান নিশ্চিতকরণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রতিটি গণপরিবহনে জিপিএস স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সড়কমন্ত্রী বলছিলেন, ফলে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রমকারী সংশ্লিষ্ট মোটরযানের চালক ও মালিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
ব্যাটারিচারিত রিক্সার বিষয়ে সংরক্ষিত আসন-৩৫ এর সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে সড়কমন্ত্রী বলেছেন, ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা মহাসড়কের পরিবর্তে স্থানীয় ফিডার রোডে চলাচল বাধ্য করতে এ ধরনের মোটরযানের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, মোটরযান চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা, কঠোর রুট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্বলিত থ্রি হুইলার এবং সমজাতীয় মোটরযান চলাচল নীতিমালা প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সরকারে পদক্ষেপ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেছেন, যেসব মোটরযানের ফিটনেসের মেয়াদ ১০ বছর আগে শেষ হয়েছে, কিন্তু ফিটনেস নবনায়ন করছে না–এসব মোটরযান সড়ক থেকে অপসারণ ও রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করা হচ্ছে।
সেুতমন্ত্রী বলেছেন, যেসব মোটরযানের ফিটনেসের মেয়াদ ৫ বছর আগে শেষ হয়েছে, সেগুলো নবায়ন করা হচ্ছে। এ দুই ধরনের যানবাহনের তালিকা পুলিশের কাছে পাঠানো ও মালিকদের চিঠি দেওয়া হচ্ছে।




