প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা
বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমেছে আশঙ্কাজনক হারে

ছবি: আগামীর সময়
বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান, গণিত, কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ আশঙ্কাজনক হারে কমেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল তিতুমীর। এ প্রবণতাকে তিনি অশনিসংকেত হিসেবে উল্লেখ করেন।
বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ডিআরইউ সদস্যদের সন্তানদের এসএসসি ও এইচএসসি সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, দেশে নানা ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এসব ব্যবস্থায় বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সীমিত। যেখানে পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে, সেখানেও শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি আগ্রহ কম। বর্তমানে বিজ্ঞান, গণিত, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, কৃতী শিক্ষার্থীরা সমাজে বিজ্ঞান ও গণিত শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরলে বড় ধরনের পরিবর্তন সম্ভব। গণিত ছাড়া পদার্থবিজ্ঞান এবং পদার্থবিজ্ঞান ছাড়া প্রকৌশল ও প্রযুক্তির উৎকর্ষ সম্ভব নয়।
শিক্ষার গুণগত মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য, একজন শিক্ষার্থী দ্বাদশ শ্রেণি পাস করার পরও যদি তার জ্ঞানের মান সপ্তম শ্রেণির পর্যায়ে থাকে, সেটি বড় সমস্যা। দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হলে তার জ্ঞানের মানও ওই স্তরের সমপর্যায়ে থাকা প্রয়োজন।
কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, সফলতা সবারই কাম্য। তবে সাফল্যের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ নিজের প্রতি, পরিবারের প্রতি, দেশের প্রতি এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা। নিজেকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি সমাজের মূল্যবোধ ধরে রাখার দায়িত্বও নতুন প্রজন্মের।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার মূল লক্ষ্য নাগরিকত্ববোধ তৈরি, দক্ষতা বৃদ্ধি ও উদ্ভাবনের সুযোগ সৃষ্টি করা। জ্ঞান অনুসন্ধান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নেবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন রাশেদ আল তিতুমীর। কৃতী শিক্ষার্থীরা দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হয়ে জ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, শিক্ষাজীবনে অর্জিত জ্ঞান, মেধা ও দক্ষতাকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। ভবিষ্যতে দেশ গঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি কৃতী শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, ‘তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ, জাতির উন্নয়নের চালিকাশক্তি। শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না, নৈতিকতা, মানবিকতা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে। তোমরা নিজেদের আলোকিত করার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশকে আলোকিত করবে, এটাই প্রত্যাশা।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্শিয়াল (এসবিএসি) ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, ক্যাপিটেক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাসান রহমান এবং এসবিএসি ব্যাংকের ব্র্যান্ডিং, কমিউনিকেশন ও পাবলিক রিলেশন বিভাগের প্রধান মো. আসাদুল্লাহিল গালিব।
এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন ডিআরইউর সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম ও কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা। অনুষ্ঠানে ডিআরইউর অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য মাহফুজ সাদি ও আল আমিন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ডিআরইউ সদস্যদের সন্তানদের মধ্যে ২০২৬ সালের এসএসসি এবং ২০২৫ সালের এইচএসসি সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৩১ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা স্মারক ও বৃত্তি দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ডিআরইউ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।



