প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
দ্রুতই খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার

ছবিঃ আগামীর সময়
দ্রুত খুলছে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার। দ্রুততার সাথে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে সরকার। কম খরচে এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানো নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের সিন্ডিকেট যেন না থাকে, সেজন্য মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও বলেছে বাংলাদেশ।
আজ রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে মালয়েশিয়া সফর নিয়ে ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ সব কথা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সফরের জন্য মালয়েশিয়া সরকার আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলেও জানান তিনি।
মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশের সরকারই ইতিবাচক। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যেমন আগ্রহী, তেমনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে সহযোগিতামূলক মনোভাব দেখিয়েছেন।
গত বুধবার মালয়েশিয়া সফরে যান শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র তিনি।
বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে এটি ছিল প্রথম বিদেশ সফর। এই সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মন্ত্রী-উপদেষ্টা । এ ছাড়া মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতো শ্রী রমনন রামকৃষ্ণনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। সফরের সময় মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দেশটির উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জাম্ব্রি আবদুল কাদিরের সাথে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন। মালয়েশিয়া সফর শেষে গতকাল শনিবার দেশে ফেরেন মন্ত্রী-উপদেষ্টা।
শ্রমিক পাঠানো কবে শুরু হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। আমরা যত দ্রুত সম্ভব এটি উন্মোচনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
মামলা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, যৌথ বিবৃতিতে এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে এখন একটা গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে, আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাস করি। বিচার বিভাগ তার নিজস্ব গতিতে চলবে। যারা অপরাধী, যারা দুর্নীতি বা অপকর্মে যুক্ত, তারা আইনি প্রক্রিয়ায় শাস্তি পাবে। একইভাবে যারা নির্দোষ, তারাও সুবিচার পাবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
‘ক্রেডিবল রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাব দেন মাহদী আমিন। তার ভাষ্য, এটি কোনো নতুন সিন্ডিকেট তৈরির উদ্যোগ নয়। এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, মালয়েশিয়ার সব সেন্ডিং কান্ট্রির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তাদের নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড রয়েছে, সেই অনুযায়ী তারা এজেন্সি নির্বাচন করে।
বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, ‘আমরা ক্রেডিবল বা কোয়ালিফাইড বলতে তাদেরই বোঝাবো, যারা দুর্নীতিমুক্ত থেকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় রিক্রুটমেন্ট পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে আমরা ধীরে ধীরে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনতে চাই।’
’’মালয়েশিয়ার উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের শ্রমিকদের অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে। সুতরাং আমরা অনুরোধ জানিয়েছি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যেন বিশেষভাবে ওনারা বিবেচনা করেন। ওনারা সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য আলাদাভাবে আলাদা নিয়মে কোনো কিছু করার সুযোগ থাকবে কি না- সামগ্রিকভাবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সে ব্যাপারে আমাদেরকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন’’-যোগ করেন তিনি।
মাহদী আমিন জানান, ‘আমরা মালয়েশিয়ার উচ্চ শিক্ষামন্ত্রীর সাথে আলোচনা করেছি। সেখানে বাংলাদেশের সাথে মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষায় কীভাবে ডিগ্রি এবং সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে সমন্বয় করার সুযোগ থাকে, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ থাকে বিশেষভাবে টিচার এবং স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে আমাদের নতুন দ্বার উন্মুক্ত করা যায় কিনা -তা নিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও যথেষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, সেই বার্তা আমরা পৌঁছে দিয়েছি।’
‘‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য দুটো দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে বহুমুখী সহযোগিতা এবং গবেষণার জন্য কীভাবে একটি প্লাটফর্ম তৈরি করা যায় এবং দুই দেশের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একসাথে কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমরা যাতে আরও বেশি কোলাবোরেশন তৈরি করতে পারি- যেটি মালয়েশিয়ার উচ্চ শিক্ষামন্ত্রীর সাথে আলোচনায় উঠে এসেছে।’’
মালয়েশিয়া সফরের বিষয়টি তুলে ধরে মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, ‘আমরা আমাদের তিনদিনের এই স্বল্প সফরে মালয়েশিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছি। একটি বার্তা খুব সুষ্পষ্ট। আমরা জনগণের ক্ষমতায়নের দল হিসেবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে- স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে কত দ্রুত কত বেশি সংখ্যক মানুষ বিদেশে কাজ করতে পারবেন, জনশক্তি রপ্তানি করতে পারব- সেটিই আমাদের মূল প্রাধান্য। মালয়েশিয়া সরকারও বলেছেন- আমরা যেভাবে ওনাদের সাথে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছি এবং যেভাবে গুরুত্ব আরোপ করেছি ব্যয় কমানোর জন্য- এর আগে তেমন কোনো সরকার এতটা চাপ প্রদান করেনি।’
প্রধামন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, এই বছর প্রথমবারের মতন আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনেরা ভোট দিয়েছেন, যা আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল এবং তার আলোকে আমরা সামনে ইনশাআল্লাহ প্রবাসী কার্ড শুরু করব। আমাদের প্রবাসী প্রতিটি ভাই এবং বোনদের পাশে আমরা থাকব। আমাদের নেতা, গণমানুষের নেতা তারেক রহমানের যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রয়েছে- তার আলোকে আমাদের সর্বাঙ্গীন প্রচেষ্টা থাকবে- যত দ্রুত সম্ভব বহির্বিশ্বে আমাদের জনশক্তি রপ্তানি আমরা আরও কীভাবে বৃদ্ধি করতে পারি আনস্কিল্ড, স্কিল্ড, সেমি স্কিল্ড প্রত্যেকটা ক্যাটাগরিতে। পৃথিবীর যেই দেশে আমাদের প্রবাসী ভাই এবং বোনেরা রয়েছেন- কীভাবে তাদের জীবনমান আরও উন্নত করতে পারি, কীভাবে ওনারা আরও একটু স্বাচ্ছন্দ্যে আরও নিরাপদে থাকতে পারেন, সেটির জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মালয়েশিয়া সফরে গিয়েছিলেন বলে জানান তার উপদেষ্টা মাহদী। তার দাবি, সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী যেভাবে তাদের বরণ করে নিয়েছেন, তিনি যেভাবে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে শুভকামনা জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং সামনে একসাথে কাজ করে সব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে যেভাবে আন্তরিকতার সাথে কথা বলেছেন- সেটি একটি অভূতপূর্ব উদ্যোগ।

