গণ–অভ্যুত্থানের পর প্রথম নির্বাচন, যা বলছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম

সংগৃহীত ছবি
গণ–অভ্যুত্থানের পর প্রায় ১৭ মাসের বিরতির পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই সঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই নির্বাচনের খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশের জেন-জি প্রজন্মের ভোটারদের মূল প্রত্যাশা হলো চাকরি, সুশাসন এবং স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ। ২০২৪ সালের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে গণ–অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটি এখন জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজকের ভোট মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে ২০০৯ সালের পর প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি, কারণ নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধন স্থগিত করেছে।
এএফপি জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন ব্যাপক ভোটারের অংশগ্রহণ আশা করছে। ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের অবসানের পর এটি দেশের প্রথম নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা আবুল ফজল মুহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, ২০–৩০ বছরের তরুণরা পূর্বে ভোটের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তরুণ ভোটাররা ২০২৪ সালের সরকার পতনের আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তারা আশা করছেন, আসন্ন নির্বাচন দেশের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা বয়ে আনবে।
আল-জাজিরা জানায়, ১৩শ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ১ লাখ ৫৭ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন, সেনাসদস্যসহ অন্যান্য বাহিনীর সহায়তায় নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ।
ডয়চে ভেলে অনুসারে, দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও একটি ইসলামপন্থী দল শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো ইসলামপন্থী শক্তিগুলো তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী নির্বাচনী উপস্থিতি প্রদর্শন করতে যাচ্ছে।
দ্য হিন্দু জানায়, বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের জন্য অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্র ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ৯০ শতাংশে সিসিটিভি নজরদারি থাকবে। ঢাকায় মোতায়েন থাকা পুলিশ সদস্যরা বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।
বাংলাদেশের এই নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে দীর্ঘ অস্থিরতার পর শিল্প ও অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের জন্য। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো নির্বাচনের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিয়ে এই নির্বাচনকে দেশটির ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছে।

