এআই ছবি দিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের হেনস্থা, গ্রেপ্তার ৬

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ-উচ্চপদস্থ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহার করে অশালীন মানহানিকর প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জয়নাল আবেদীন মানিক, রবিন তাজ, মামুন লস্কর সরকার, মো. হেলাল উদ্দিন, নজরুল ইসলাম এবং মো. ইসমাইল ওরফে রুবেল। দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব জানায়, রাষ্ট্রীয় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে এআই জেনারেটেড অশালীন মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ ছবি-ভিডিও তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই কার্যক্রমের নেপথ্যে রয়েছে দেশে এবং বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর একটি সুসংগঠিত ‘বট বাহিনী’।
রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য জানান। তিনি বলেছেন, গত বছরের শেষভাগ থেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি, গ্রুপ, পেজ, ইউটিউব চ্যানেল ও টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে এ ধরনের ছবি ও ভিডিও পরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব কনটেন্টের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ায় এ বিষয়ে একাধিক মামলা করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের আবেদনের ভিত্তিতে র্যাব তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। তাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এসব ডিভাইস থেকে পাওয়া আলামত বিশ্লেষণ করে পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্তের কাজ চলছে।
তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় র্যাবের ফলোআপ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে পুরো চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এ মামলার তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটর ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর জোহা প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছেন। তিনি বলেছেন, ইদানিং আমাদের রাষ্ট্রীয় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে টেলিগ্রাম, ফেসবুক এবং ইউটিউবের বিভিন্ন চ্যানেলে এআই জেনারেটেড কিছু ফটো পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে। যেগুলো সত্য হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ফ্যাসিবাদী গ্রুপের বেশ কিছু নির্দিষ্ট দেশি এবং বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপসহ অন্যান্য মাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিজিটাল ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এই সংক্রান্ত যাবতীয় ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট জমা দিয়েছি, যা পরবর্তীতে আদালতে পাঠানো হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের যেসব ছবি আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, তার প্রত্যেকটিই এআই ডিটেকশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে। সেগুলো এআই নির্মিত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এই প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর পেছনে যত রকমের ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, তার সবই আমরা আদালতে পেশ করব।
তিনি জানিয়েছেন, তদন্তকালীন আমরা প্রাথমিকভাবে লক্ষ্য করেছি এই কার্যক্রমের নেপথ্যে রয়েছে দেশে এবং বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর একটি সুসংগঠিত ‘বট বাহিনী’। তারা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি পরিকল্পিতভাবে ক্ষুণ্ন করার জন্য এই জাতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পুরো চক্রটি এখন চিহ্নিত হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এবং সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য প্রদানের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
র্যাব জানায়, রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সাইবার অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তদন্তে জড়িত অন্যদেরও পর্যায়ক্রমে আইনের আওতায় আনা হবে।




