প্রধানমন্ত্রী
দেশকে স্থিতিশীল রাখতে কারও কথায় বিভ্রান্ত হলে চলবে না

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর শিশুদের সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন - পিএমও
দেশের ভেতরে যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের ‘চোখে চোখে’ রাখতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বললেন, ‘দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী আছে, অনেক রটনাকারী আছে। এদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে এরা অতীতে কী করেছে? সেই অতীত বিবেচনা করে আমাদের তাদের চোখে চোখে রাখতে হবে, অতীত বিবেচনা করে তারা কী করছে, সেদিকে আমাদের নজর রাখতে হবে।’
গতকাল রবিবার বিকালে পুরাতন কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, ভিক্ষু, পাদ্রীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলছিলেন তিনি। অনুষ্ঠানে অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধীদের আর্থিক অনুদানের চেক দেন তিনি, একজন প্রতিবন্ধীর হাতে তুলে দেন চাকরির নিয়োগপত্র।
দেশের মানুষের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘দেশকে আমাদের স্থিতিশীল রাখতে হবে। কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় বিভ্রান্ত হলে চলবে না। বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করতে আসে অতীতের মতো তাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে।’
অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটে কিছু গোষ্ঠীর ভূমিকার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বললেন, এরা অতীতে কী করেছে, তা বিবেচনায় নিয়ে এদের চোখে চোখে রাখতে হবে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক ঘটনাবলি এবং বিগত ১৭ বছরের জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথে এদের কোনো ভূমিকা ছিল না। গত ১৭ বছরের আন্দোলনে বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলোর নেতাকর্মীরাই গুম, খুন, নির্যাতন ও অত্যাচারের শিকার হয়েছেন।
সাম্প্রতিক ‘সংস্কার’-সংক্রান্ত আলোচনার প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বললেন, ‘বিগত ১৭ বছর ধরে রাজপথে অনুপস্থিত থেকে যারা আজ সংস্কারের নামে বড় বড় কথা বলছেন, তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। বিএনপিই ২০২২ সালে সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয় সংস্কারের রূপরেখা জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছিল। এরও আগে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে সংস্কারের প্রথম প্রস্তাবনা তৈরি হয়।’
প্রধানমন্ত্রী বললেন, জনকল্যাণমূলক কাজই তার সরকারের অগ্রাধিকার। এ প্রসঙ্গে টানেন ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের কার্যকর বাস্তবায়ন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা দেওয়ার প্রসঙ্গ। পাশাপাশি কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এবং তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন মিল-কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলছিলেন, ‘মানুষকে পেছনে রেখে বা তাদের সঠিকভাবে তৈরি করতে না পারলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। আমরা যতই বড় স্লোগান দিই না কেন, মানুষকে যদি আমরা আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে না পারি, দেশের প্রত্যেক নাগরিককে যদি আমরা অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে কখনোই আমরা দেশকে গড়ে তুলতে পারব না।’
অন্য কোনো দেশের অনুকরণে নয়, বাংলাদেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য, উল্লেখ করলেন প্রধানমন্ত্রী। বললেন, এমন এক বাংলাদেশ তৈরি করা হবে, যেখানে দেশের প্রতিটি শ্রেণির মানুষ রাষ্ট্রের কাছ থেকে তার প্রাপ্য মর্যাদা ও সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা পাবে।
শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান উন্নয়নে ১৭ কোটি টাকার প্রকল্প: কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের ২০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মাঠের সার্বিক সুবিধা বাড়াতে এবং আধুনিকায়নে ১৭ কোটি টাকার সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে এসব কথা জানালেন তিনি। বললেন, প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে সরকারি তহবিল থেকে ৬ কোটি টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে। শিগগির দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ শেষ হবে।
যেসব উন্নয়ন করা হবে তার মধ্যে রয়েছে শোলাকিয়া মাঠের সীমানাপ্রাচীর ও দৃষ্টিনন্দন প্রবেশদ্বার নির্মাণ, অজুখানার সুব্যবস্থাসহ সংলগ্ন পুকুরের সৌন্দর্যবর্ধন এবং মাঠটিকে চলাচলের উপযোগী করা। এর ফলে স্থানীয় ছেলেমেয়েদের খেলাধুলা এবং সাধারণ মানুষের সকাল-সান্ধ্যকালীন হাঁটার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি শোলাকিয়া মাঠ পরিবেশবান্ধব ও ছায়ানিবিড় করতে নিমগাছ রোপণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।






