সচিব
কারও প্রভাবে নয়, আইন অনুযায়ী কাজ করে দুদক

ছবি: আগামীর সময়
ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে বদলে যায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার গতি-প্রকৃতি। এক সরকারের আমলে যেসব মামলা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে, সরকার বদলালে সেসব মামলার অনেকটাই হারিয়ে যায় আড়ালে। আবার নতুন করে সক্রিয় হয় অন্য কিছু মামলা। এতে দুদকের নিরপেক্ষতা ও মামলার ধারাবাহিকতা নিয়ে তৈরি হয় নানা প্রশ্ন।
নিয়োগ-বদলির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মাসাতের অভিযোগ এনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে দুদক । এর প্রেক্ষিতে দুদকের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্নও তোলেন আসিফ মাহমুদ।
তার অভিযোগ ‘দীর্ঘ পাঁচ মাস পর পুনরায় দুদক গঠিত হলেও আওয়ামী লীগের সময়ের কোনো দুর্নীতি নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই।’
তবে এমন অভিযোগকে উড়িয়ে দিলেন দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান। দুদক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করে না বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির সচিব।
তার ভাষ্য, স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করেই দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত করে দুদক।
আজ সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বললেন দুদক সচিব।
সাইদুর রহমান খান বলেছেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তা রাজনৈতিক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এমন ধারণার সুযোগ নেই। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা, প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও আইনগত বিষয় পর্যালোচনা করেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা আ ফ ম রুহুল হক এবং তার ছেলে জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। তবে মামলার অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য ও অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাননি দুদক সচিব।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধেও মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুদক। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ প্রায় ১৪ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদক সচিব জানিয়েছেন, অভিযোগের অনুসন্ধানে নাছির উদ্দীনের নামে ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের তথ্য, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা হয়েছে। অনুসন্ধানে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসঙ্গতির তথ্য পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কমিশনের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ব্যক্তি, পদ বা রাজনৈতিক পরিচয় কোনো বিবেচ্য বিষয় নয় বলে সাফ জানিয়ে দিলেন দুদক সচিব। অভিযোগের ধরন ও প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
‘দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্তে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’— যোগ করেন সচিব।
সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুমোদিত মামলাগুলো এখন নিয়ম অনুযায়ী দায়ের ও তদন্তের পরবর্তী ধাপে যাবে। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া গেলে তার ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুদক।





