বাংলাদেশের চিঠির জবাব এখনো দেয়নি সৌদি
- গঙ্গা চুক্তি নবায়নে আশাবাদী সরকার
- ক্লাইমেট ফান্ডে ঋণের বদলে অনুদান চায় বাংলাদেশ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। ছবি: আগামীর সময়
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় চিঠি দেওয়ার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জবাব দেয়নি সৌদি আরব সরকার। চিঠিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রকৃত কারণ ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে— এমনটি জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
সৌদি আরবে বাংলাদেশের মিশন নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। সময় লাগছে, তবে দ্রুতই সৌদি সরকারের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যাবে এমন আশা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।
গত ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে বাংলাদেশের দুই নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এ ঘটনার পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কারণ, বিচারপ্রক্রিয়া এবং মরদেহের অবস্থানসহ ছয়টি বিষয়ে তথ্য চেয়ে সৌদি সরকারকে চিঠি দেয় বাংলাদেশ।
গত ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় পাঠানো ওই কূটনৈতিকপত্রে দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, অপরাধের ধরন, ঘটনার সময় ও স্থান এবং গ্রেপ্তারের তারিখ জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি আদালতের রায়ের সত্যায়িত কপি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি, মরদেহের বর্তমান অবস্থান এবং বিচার চলাকালে তাদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়।
স্পেন ও যুক্তরাজ্য সফর ফলপ্রসূ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
গত ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবর স্পেন ও যুক্তরাজ্য সরকারি সফরে গিয়েছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এই সফরকে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্পেনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে স্পেন বাংলাদেশের অন্যতম বড় রপ্তানি গন্তব্য।
‘দেশটিতে রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজ করছে সরকার’, যোগ করেন তিনি।
সফরে স্পেনের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে দুদেশের সম্পর্ক জোরদার এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন খাতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
যুক্তরাজ্য সফর নিয়েও কথা বলেন শামা ওবায়েদ। দেশটির জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূতের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
কপ-৩১ সম্মেলনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী
জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে (কপ-৩১) ৯-২০ নভেম্বর তুরস্কে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের অংশ নেওয়ার বিষয়েও অবস্থান তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বল্প সময়ের জন্য অংশ নেবেন। সেখানে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নিজেদের সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরবেন— এমনটি জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
শামা ওবায়েদ বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন। জলবায়ু তহবিলের অর্থ ঋণ হিসেবে নয়, অনুদান হিসেবে দেওয়ার দাবি জানাবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণে বেশি দায়ী দেশগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।
তিনি বলেছেন, কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের ভূমিকা খুবই সামান্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগীদের একটি বাংলাদেশ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা হবে।
গঙ্গা চুক্তি নবায়নে আশাবাদী বাংলাদেশ
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে আশাবাদী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি কমিটি গঠন করেছেন। পানিসম্পদমন্ত্রী ও অর্থ উপদেষ্টা এ প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কমিটিতে রয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিও।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ভারতের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের ন্যায্য দাবি ও জনগণের পানির প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের পানির সমস্যার সমাধানে যে সিদ্ধান্ত সবচেয়ে ভালো হবে, সরকার সেভাবেই আলোচনা এগিয়ে নেবে। চলতি বছর মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া গঙ্গা চুক্তি নবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ আশাবাদী। আশা করছি, ভারতও সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।





