সংসদ প্রাঙ্গণে চিরঘুমে জমির উদ্দিন সরকার

সংগৃহীত ছবি
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছে। দুই দফা জানাজা শেষে আজ রবিবার বিকালে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের নির্ধারিত চত্বরে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে তার মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তার কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। পরে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং মোনাজাত করা হয়।
আজ ভোর সোয়া ৪টার দিকে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জমির উদ্দিন সরকার। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। তিনি দুই ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
জানাজায় অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় সংসদ ভবনে তার জানাজায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈরী আবহাওয়ার কারণে দক্ষিণ প্লাজার পরিবর্তে সংসদ ভবনের মূল প্রবেশ টানেলে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রদ্ধা জানান। বিএনপির পক্ষ থেকেও তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, অন্যান্য হুইপ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়।
পরে স্পিকার, বিএনপি মহাসচিব, বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও চিফ হুইপ সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তার কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করেন।
বিএনপির শোক কর্মসূচি
জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে আগামীকাল সোমবার দেশব্যাপী এক দিনের শোক কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। এ উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন।
সুপ্রিম কোর্টে অর্ধদিবস ছুটি
তার মৃত্যুতে আজ রবিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম দিনের দ্বিতীয়ার্ধে বন্ধ ছিল। আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্টও বন্ধ রাখা হয়।
রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক
জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা শোকবার্তায় তারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
এ ছাড়া স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা শোক জানিয়েছেন।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন
২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে জমির উদ্দিন সরকার অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে তার জন্ম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং পরে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সক্রিয় আইনজীবীদের অন্যতম ছিলেন তিনি। পরে জিয়াউর রহমানের গঠিত জাগদলে যোগ দেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হন এবং আমৃত্যু ওই পদে দায়িত্ব পালন করেন।




