শামা ওবায়েদ
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে রাজনৈতিক ঐক্য জরুরি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট আমাদের তৈরি কোনো সমস্যা নয়। এটি মায়ানমারের তৈরি করা একটি রাজনৈতিক সমস্যা। কিন্তু এই সমস্যার সমাধানে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত জরুরি।
আজ রবিবার সিরডাপ মিলনায়তনে নীতি সহায়তা কেন্দ্র আয়োজিত এক সেশনে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এই সেশনের শিরোনাম ছিল— সাসটেইনেবল এপ্রোচ টু দ্য রেজল্যুশন অব দি রোহিঙ্গা ক্রাইস: আউটলাইন অব এ ন্যাশনাল স্ট্রাটেজি অ্যান্ড এক্সটার্নাল কন্ট্রিবিউশন শীর্ষক জাতীয় সংলাপের রোহিঙ্গা স্ট্রাটেজি: পলিটিকাল ভয়েসেস অ্যান্ড দ্য পাথ টু ন্যাশনাল কনসেনশাস।
প্রথাগত কূটনৈতিক তৎপরতা দিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাখাইনের বর্তমান রাজনৈতিক ও ভূখণ্ডগত পরিস্থিতির কারণে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্থানীয় নিয়ন্ত্রক শক্তি আরাকান আর্মির সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে চীন, ভারত ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার জোর তৎপরতা চলছে।
শামা ওবায়েদ বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাতীয় রাজনৈতিক ঐকমত্য গঠন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইস্যুটিকে সক্রিয় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট শুধু মানবিক সমস্যা নয়, এটি মূলত একটি গভীর রাজনৈতিক ইস্যু। তাই এর সমাধানে জাতীয় ঐকমত্য, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও সর্বস্তরের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য। পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ‘হোল অব গভর্নমেন্ট’ অ্যাপ্রোচ গ্রহণ করা হয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, এ লক্ষ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, সমাজকল্যাণসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাসমূহের সমন্বয়ে জাতীয় কৌশল প্রণয়ন কমিটি কাজ করছে।
রোহিঙ্গা সংকটের কারণে সৃষ্ট বহুমুখী চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা অবস্থান করায় কক্সবাজারসহ স্থানীয় জনগোষ্ঠী মারাত্মক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। এ ছাড়া, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও মানব পাচার, অভ্যন্তরীণ ক্যাম্পে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব ও বাংলাদেশি জেলেদের আটকের মতো ঘটনায় এটি এখন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগে পরিণত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে প্রতি বছর ৩০-৩৫ হাজার নতুন শিশুর জন্ম এবং পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল রূপ নিচ্ছে।
সংকট সমাধানে জাতিসংঘে উত্থাপিত প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের স্বদেশে সম্মানজনক, নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ এবং অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্ব জুড়ে চলমান বিভিন্ন যুদ্ধ ও নতুন নতুন শরণার্থীসংকটের মধ্যে আন্তর্জাতিক ফোরামে রোহিঙ্গা সমস্যাকে সচল ও অগ্রাধিকার তালিকায় রাখার জন্য মিডিয়াসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান শামা ওবায়েদ।



