জুনের শেষে চীন সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী : ডেপুটি স্পিকার

সংগৃহীত ছবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে সফরের জন্য চীনকে বেছে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তিনি বলেছেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চলতি জুন মাসের শেষ সপ্তাহে রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।’
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে সপ্তম চায়না-সাউথ এশিয়া কো-অপারেশন ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
বিকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ডেপুটি স্পিকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। উভয় দেশের সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতাকে আরেক ধাপ এগিয়ে দেবে।’
উপস্থিত প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বললেন, ‘বৈশ্বিক বর্তমান জ্বালানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা, বিশ্ব বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা ইত্যাদি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা কোনো একক দেশের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা বর্তমান বিশ্বে একটি অপরিহার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
কায়সার কামালের অভিমত, বিশ্বব্যাপী দেশে দেশে সম্পর্কের ভিত মজবুত করে ডিজিটাল এবং অর্থনৈতিক বহুমুখী উদ্যোগ, আন্তঃসীমানা অবকাঠামো, বাণিজ্য করিডর এবং ডিজিটাল হাইওয়ে, শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন ও তরুণদের অভিজ্ঞতার আদান-প্রদান ইত্যাদি সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণ এবং অর্থনৈতিক সংযোগ বৃদ্ধি করে একযোগে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা করতে হবে।
ফোরামে আরও বক্তব্য রাখেন ইউনান প্রদেশের গভর্নর ওয়াং ইউরো, নেপাল ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা কুমারী বান্দরী, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইরাথিশাম আদাম, শ্রীলংকার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী অরুন হিমাচন্দ্র, সার্কের মহাসচিব মো. গোলাম সরওয়ার, চায়নায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত খলিলুর রহমান, চায়নায় আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদুল্লাহ বিলাল কারিমি, ভুটানের শিল্প, কর্মসংস্থান ও বাণিজ্যমন্ত্রী কর্মা দর্জিসহ চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
এর আগে ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় দল দশম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন; যেখানে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির দেশের বাণিজ্য ডেলিগেটের প্রধান হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
এবারের দশম চায়না এক্সপোজিশনের থিম কান্ট্রি বাংলাদেশ হিসেবে দেশের ৮৪টি প্যাভিলিয়ন মেলায় অংশগ্রহণ করছে। বিশ্বের মোট ৯০টি দেশ কুনমিংয়ের এই বিশাল বাণিজ্যমেলায় অংশগ্রহণ করছে।
বাংলাদেশে ও চায়নার দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশের সংসদীয় দল চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট মি. ওয়ে এবং ইউনান প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি ওয়াং নিংয়ের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন। বাংলাদেশের সংসদীয় দল কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, ইকোনমিক জোন, পর্যটন, তিস্তা প্রকল্প, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন।
চীনের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে বললেন, বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে চীন কাজ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
ডেপুটি স্পিকার চীনা প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে তারা আন্তরিকভাবে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। অচিরেই বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
সংসদীয় দলের অন্যরা হলেন- এনসিপির সদস্যসচিব আকতার হোসেন, বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব ও সংরক্ষিত স্বতন্ত্র এমপি জেসমিন সুলতানা জুঁই।






