ধর্ষণের ২৭ সপ্তাহ পর সরকারি শিশু পরিবার জানল কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা
- পাঁচ সমাজসেবা কর্মচারী বরখাস্ত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ফরিদপুর সরকারি শিশু পরিবারে থাকে কিশোরী (১৪)। পড়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে চকলেট ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ফাঁদে ফেলেন স্থানীয় ওয়াহিদ শেখ (৫৪)। একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয় কিশোরী। বিষয়টি গোপনই ছিল। বেরিয়ে এলো যখন, তখন ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। আর পুরো ঘটনাটি ঘটে সরকারি শিশু পরিবারের দায়িত্বশীলদের অগোচরে।
এ ঘটনায় সম্প্রতি কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। দায়িত্বে অবহেলার কারণে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন প্রতিষ্ঠানের পাঁচ কর্মচারী। তাদের আগারগাঁও সদর কার্যালয়ে সংযুক্ত করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
মামলার এজাহার থেকে জানা যাচ্ছে, ভুক্তভোগীর বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। অভিযুক্ত ওয়াহিদ শেখের বাড়ি ফরিদপুর সদর উপজেলার আদমপুর গ্রামে।
ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা কাঁচাবাজার এলাকার মেমোরি টেইলার্স নামের প্রতিষ্ঠানটি তার। সেখানেই প্রথমে প্রলোভন ও পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। জানুয়ারির ৫ তারিখের এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসে জুলাইয়ের ৬ তারিখ। সেদিন দুপুরে ভুক্তভোগী কিশোরী পেট ব্যথাসহ শারীরিক অসুস্থতা বোধ করে। বিষয়টি জানানো হয় শিশু পরিবারের খালাম্মা পদমর্যাদার তানিয়া তাজরিনকে। তিনি দ্রুত প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ককে ঘটনাটি জানান।
ওই দিনই ভুক্তভোগীকে নেওয়া হয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে চিকিৎসক জানান, কিশোরী ২৭ সপ্তাহ ২ দিনের অন্তঃসত্ত্বা। এরপর মামলা করে প্রতিষ্ঠান। কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাহমুদুল হাসান বলছিলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। আসামি ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন।’
পাঁচ সমাজসেবা কর্মচারী বরখাস্ত
গত সোমবার অফিস আদেশে পাঁচ কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রশাসন ও অর্থ শাখা। সেখানে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়, ঢাকা এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, ফরিদপুরের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। মূলত সংবেদনশীল ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা, প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতার কথা বলা হয়েছে আদেশে।
বরখাস্ত হওয়া কর্মচারীরা হলেন— সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান, খালাম্মা সামসুন্নাহার আক্তার, খালাম্মা তাসলিমা তাসরিন, মেইন কেয়ার নার্স মনি আক্তার এবং কম্পাউন্ডার আবির দাস।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ এহিয়াতুজ্জামান বলছেন, ‘ধর্ষণের ঘটনাটি আমরা ৬ জুলাই জেনেছি। তখনই তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নিই।’ বিষয়টা বিচারাধীন হওয়ায় এ নিয়ে বিস্তারিত বলতে অপরাগতা জানান তিনি।
তবে সরকারি শিশু পরিবার ফরিদপুরের তত্ত্বাবধায়ক আরিফ হোসেন আগামীর সময়কে বলছিলেন, ‘ঘটনাটি আরও আগের। আমরা জানতে পারি ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর। তার শারীরিক গঠনের কারণে আমরা প্রথমে বিষয়টি বুঝিনি। অসুস্থ হলে তার সহপাঠীরা আমাদের ঘটনাটি জানায়। পরে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমি হাসপাতালে নিয়ে যাই। আমি মামলা করেছি এবং তৎক্ষণাৎ আসামি গ্রেপ্তার হয়।’
পাঁচ সমাজসেবা কর্মচারীকে বরখাস্ত করার প্রশ্নে তার ভাষ্য, তারা শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিল। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মনে হয়েছে তারা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন।
* প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন ফরিদপুর প্রতিনিধি সঞ্জিব দাস





