দিল্লিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তিন বৈঠক কাল

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামীকাল বুধবার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন। বুধবার দুপুর থেকে এসব বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতের মিনিস্ট্রি অব এক্সটারনাল অ্যাফেয়ার্সের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় সময় দুপুর ১টায় হায়দ্রাবাদ হাউজে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন খলিলুর রহমান। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় বাণিজ্য ভবনে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন বিকেল সাড়ে ৫টায় আকবর রোডের একটি ভেন্যুতে পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সফরে চারটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জোর দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এগুলো হলো, জ্বালানি সহযোগিতা, ভিসা, গঙ্গা পানি চুক্তির নবায়ন এবং সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়।
আগামী ১০ থেকে ১২ এপ্রিল মরিশাসে অনুষ্ঠিতব্য ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে যোগ দিতে যাওয়ার পথে নয়াদিল্লিতে যাত্রাবিরতিকালে এসব বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন খলিলুর রহমান।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও জনকূটনীতি অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
মাহবুবুল আলম বলেছেন, ‘দিল্লিতে অবস্থানকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
‘সম্মেলনে অংশ নিতে মঙ্গলবারই ঢাকা ত্যাগ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সম্মেলনে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সমুদ্র বিষয়ক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।’ - যোগ করেন তিনি।
মাহবুবুল আলম আরও বলেছেন, ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যেই এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা আগামী বছরগুলোতে আরও ফলপ্রসূ ও টেকসই পর্যায়ে পৌঁছাবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। পরে তারা ৯ এপ্রিল মরিশাস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত ত্যাগ করবেন।
উল্লেখ্য, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশি কোনো মন্ত্রীর এটিই প্রথম দিল্লি সফর। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে প্রাধান্য দিয়ে ঢাকা, দিল্লির সঙ্গে পূর্বের টানাপোড়েন কাটিয়ে পারস্পরিক লাভজনক ও সম্মানজনক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী।















