পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বেনজীরের মামলা সংক্রান্ত নথি হস্তান্তর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ- ফাইল ছবি
দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া এগোল আরও এক ধাপ। বেনজীরের মামলা সংক্রান্ত নথি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ মঙ্গলবার রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি নথিপত্র হস্তান্তর করেছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে বেনজীরকে দেশে ফেরানো সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ শেষ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে আজ সকালে একটি অনুরোধপত্র চূড়ান্ত করে সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেখান থেকে ফাইলটি প্রক্রিয়া শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, অনুরোধপত্র তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ বিভিন্ন মামলার তথ্য–প্রমাণসহ একটি অনুরোধপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাবে। পরে কূটনৈতিক চ্যানেলে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে পাঠানো হবে।
গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয় বেনজীর আহমেদকে। ই-মেইলের মাধ্যমে এ তথ্য বাংলাদেশ সরকারকে জানায় আমিরাত। বিষয়টি রবিবার জাতীয় সংসদে নিশ্চিত করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, বেনজীরকে ফিরিয়ে আনতে তার গ্রেপ্তার হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অনুরোধপত্র পাঠাতে হবে।
বেনজীর আহমেদ সপরিবার দেশ ছেড়েছিলেন ২০২৪ সালের ৪ মে। ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিশ’ জারি করা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে।
দুদক সূত্র জানায়, বেনজীরের বিরুদ্ধে বর্তমানে ছয়টি দুর্নীতি ও জালিয়াতির মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এসব মামলা, অভিযোগপত্রের নথি, তথ্য-উপাত্ত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র একত্র করে অনুরোধপত্র দ্রুত পাঠানোর প্রস্তুতি নেয় দুদক।
আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের আমলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার (২০১০-১৫) এবং র্যাবের মহাপরিচালকের (২০১৫-২০) দায়িত্ব পালন করেন বেনজীর আহমেদ। ২০২০ সালের এপ্রিলে তাকে আইজিপি করা হয়। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ওই পদে ছিলেন।
বেনজীর আহমেদের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি।
২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাব ও এর সাত সাবেক ও তৎকালীন কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেয়। এই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নাম ছিল। তখন তিনি আইজিপি ছিলেন। ২০২২ সালে অবসর নেন বেনজীর। তখন তাকে আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়নি।
২০২৪ সালের শুরুতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। দুদক বিষয়টি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিলে তিনি দেশ ছাড়েন।






