আসন্ন আইসিএও নিরীক্ষা সামনে রেখে বিমানবন্দর নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ

সংগৃহীত ছবি
দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর, সমন্বিত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার লক্ষ্যে জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএএসসি) ১৪তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নিরীক্ষা সামনে রেখে বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা কার্যক্রমে সমন্বয় জোরদার, প্রবেশ ও তল্লাশি ব্যবস্থা শক্তিশালী এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্ব আরও সুস্পষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বুধবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরের চেয়ারম্যান সচিবালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সভায় সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল।
সভায় অংশ নেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বেবিচক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ পুলিশ এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা।
সভায় প্রথমে এনসিএএসসির ১৩তম সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে নিরাপত্তা তল্লাশি জোরদার, যানবাহন তল্লাশি ব্যবস্থার কার্যকারিতা, ভিআইপি ও সিআইপি লাউঞ্জের নিরাপত্তা তল্লাশি, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমঝোতা স্মারক প্রণয়ন এবং বিমানবন্দরের স্থলভাগের নিরাপত্তার বিষয় ছিল।
এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে পাঠানো পণ্য ও ডাকের উচ্চঝুঁকির চালান ও ডাক শনাক্তকরণ, বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন প্রতিরোধ, নিরাপত্তাজনিত কারণে যাত্রীর অনুপস্থিতিতে খোলা মালামালের ব্যাগে নিরাপত্তা স্টিকার দেওয়া, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার আওতায় বিমানবন্দরে বিমানবাহিনীর সদস্য মোতায়েন এবং মিশনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিআইপি ও সিআইপি হিসেবে গণ্য করার বিষয়েও আগের সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
১৪তম সভায় ভিআইপি ও সিআইপি যাত্রীদের অভিবাসন কার্যক্রমে নির্ধারিত প্রটোকল নিশ্চিত এবং অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভিআইপি ও সিআইপি অভিবাসন এলাকায় দাপ্তরিক প্রটোকল ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি নিয়মবহির্ভূত ব্যক্তিদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
বিমানবন্দর নিরাপত্তায় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে একীভূত কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়। আইসিএওর অ্যানেক্স-১৭, দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি এবং জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির আলোকে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও অংশীজনের দায়িত্ব ও কার্যক্রমের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আসন্ন আইসিএও নিরীক্ষার কথা বিবেচনায় রেখে বিমানবন্দর পর্যায়ে বেবিচকের অধীনে নিরাপত্তা কার্যক্রমের সমন্বয় আরও কার্যকর করার বিষয়টি সভায় গুরুত্ব পায়।
বিমানবন্দরের স্থলভাগের নিরাপত্তায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য মানসম্মত পরিচালন পদ্ধতি প্রণয়ন নিয়েও আলোচনা করা হয়। আইসিএওর নিরীক্ষা প্রটোকলের সংশ্লিষ্ট ধারার আলোকে এসব সংস্থার নিরাপত্তা কার্যক্রমের মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরিচালন পদ্ধতি প্রণয়ন এবং বেবিচকের অনুমোদন নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
সভায় কক্সবাজার বিমানবন্দরের সম্প্রসারিত রানওয়ের সমুদ্রবক্ষে স্থাপিত ক্যাটাগরি-২ নির্ভুল অবতরণ সহায়ক আলোকব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়। গুরুত্বপূর্ণ এ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং আইসিএওর নিরাপত্তা মান ও নির্দেশনার আলোকে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।




