ইইউসহ ১৫ দেশের বিবৃতি
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি

ফাইল ছবি
মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ১৫টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীদের নবম বর্ষপূর্তিতে আজ মঙ্গলবার ঢাকাস্থ জাপান দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ৯ বছর আগে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এখনো বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে রাখাইনে সংঘাত ক্রমেই তীব্র হওয়ায় সেখানে মানবিক সংকটও বাড়ছে। নিরাপত্তাহীনতা, বেসামরিক অবকাঠামোয় বিমান হামলা এবং মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের ত্রাণ ও বাণিজ্যে অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় এক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। বাস্তুচ্যুতি ও নানা সংকটের মধ্যেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে আসছে বাংলাদেশের জনগণ।
চলমান অস্থিতিশীলতার কারণে বাংলাদেশসহ পুরো অঞ্চলে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি বাড়ছে। বিপজ্জনক সমুদ্রপথে পাড়ি দিতে গিয়ে রোহিঙ্গাদের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে— উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।
দেশগুলো মনে করে, বর্তমান পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য উপযোগী নয়। প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করতে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো মোকাবিলা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা তৈরি এবং মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও কৌশলগত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সফল প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যাতে তারা মিয়ানমারের রাখাইনে ফিরে নিজেদের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও সম্প্রদায় পুনর্গঠন করতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা কীভাবে দেওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে। স্থানীয় নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সহায়তার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে বাংলাদেশি এবং শরণার্থী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর ভূমিকা বাড়ানোর উদ্যোগকে সমর্থন করা হয়েছে।
রোহিঙ্গাদের জীবন ও ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের মতামতকে কেন্দ্রে রাখার আহ্বান জানিয়েছে দেশগুলো।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই সংকট দশম বছরে প্রবেশ করলেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ভুলে গেলে চলবে না। তাদের কণ্ঠস্বর আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থন অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যাবে দেশগুলো।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো—কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জাপান, কসোভো, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য।
প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪৫ হাজার শরণার্থী
২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট মানবিক কারণে বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দেওয়ার পর কয়েক মাসের মধ্যে সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী কক্সবাজারে পৌঁছায়। টেকনাফ-উখিয়ার পাহাড়ি ভূমিতে বাঁশ, দড়ি আর ত্রিপলে তৈরি ঘরে জায়গা হয় তাদের।
উখিয়া পরিণত হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে। যেখানে প্রতি বর্গকিলোমিটার এলাকায় প্রায় ৪৫ হাজার শরণার্থীর বসবাস।
রাখাইনে জাতিগত সংঘাতের পর ২০২৪ সাল থেকে আরও দেড় লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিবছর যুক্ত হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার নতুন জন্ম নেওয়া শিশু। নতুন-পুরনো মিলিয়ে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা এখন ১৩ লাখের বেশি।








