চুরির মামলায় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক গ্রেপ্তার

সংগৃহীত ছবি
চুরির মারায় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) আশ্রাফুল মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিনা অনুমতিতে অফিসের মালামাল, গ্যাস সিলিন্ডার ও ট্রাঙ্ক চুরির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) রেজওয়ানা আক্তার জাহান বাদি হয়ে ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা করেন।
আজ শুক্রবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধানমন্ডি মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব। তিনি জানিয়েছেন, ট্রাস্টে বিভিন্ন মালামাল চুরির অভিযোগে বৃহস্পতিবার শেষ রাতের দিকে মামলাটি করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আশ্রাফুলকে গ্রেপ্তার করে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ধানমন্ডি মডেল থানার এসআই মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহকে।
মামলার বিবরণী ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আশ্রাফুল মামুন পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ৬ আগস্ট তাকে সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করে অন্য শাখায় বদলি করা হলেও তিনি নতুন পদে যোগ না দিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে অফিসের মালামাল নিয়ে যান।
আশ্রাফুল মামুন গত ৮ আগস্ট শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সকালে আউটসোর্সিং গাড়িচালক মো. আবুল কালামকে নিয়ে ট্রাস্টের অফিসিয়াল গাড়িতে করে নিজের বর্তমান ঠিকানায় যান। পরে দুপুরে পুনরায় ধানমন্ডি ১২/এ রোডস্থ ট্রাস্টের অফিসে এসে পৌনে ৩টায় বড় ৪টি বস্তা ও ছোট কয়েকটি ব্যাগভর্তি মালামাল গাড়িতে তুলে অফিস ত্যাগ করেন। এ ছাড়া গত ১১ আগস্ট মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে ময়মনসিংহ বোর্ডের একটি ট্রাঙ্ক অফিসের করিডোর থেকে ট্রাস্টের ড্রাইভার শামীম মৃধার মাধ্যমে গাড়িতে করে নিজের বাসায় নিয়ে যান বলে আনসার সদস্য মনিরুল ইসলাম নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত ২৫ জুলাই শনিবার বিকাল ৫টার দিকে ছোট একটি কভার্ড ভ্যানে করে ট্রাস্টের ৪টি গ্যাস সিলিন্ডার সরিয়ে নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে আশ্রাফুলের বিরুদ্ধে। দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা চালককে জিজ্ঞাসা করলে জানান, সিলিন্ডারগুলো আশ্রাফুলের নির্দেশে গাবতলী নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ২৫ জুলাই থেকে ১১ আগস্টের মধ্যে দফায় দফায় ট্রাস্টের মালামাল, ট্রাক ভর্তি মালামাল ও ৪টি গ্যাস সিলিন্ডার সরানোর ঘটনাটি সামনে আসলে প্রথমে ১৩ আগস্ট ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরবর্তীতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ও আলোচনার ভিত্তিতে গতরাতে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে দায়ের করা হয়।







