স্পিকার
রাজস্ব আহরণ, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও স্থিতিশীলতাই অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
বর্তমানে রাজস্ব আহরণ, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
আজ রবিবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথকক্ষে বাজেট হেল্পডেস্ক-২০২৬-এর অধীনে আয়োজিত বাজেটবিষয়ক ডিব্রিফিং সেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
স্পিকার বলেছেন, ‘বাজেট ডিব্রিফিং সেশনের আয়োজন সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। জাতীয় বাজেট ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের জ্ঞান ও সক্ষমতা বাড়াতে এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’
‘তথ্য ও উপাত্তভিত্তিক বাজেট বিশ্লেষণে বাজেট হেল্পডেস্ক সংসদ সদস্যদের সহায়তা করছে। সরকারের আর্থিক নীতি ও কৌশল সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা অর্জনের জন্য সংসদ সদস্যরা সংসদ লাইব্রেরির সুযোগ-সুবিধাও কাজে লাগাতে পারেন।’—যোগ করেন তিনি।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘বাজেট নিয়ে সংসদ সদস্যদের আগ্রহ এবং সংসদীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় সম্পৃক্ততা জাতির জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। জনগণ এই সংসদের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে। তাদের ভবিষ্যৎ পথচলার রূপরেখা অনেকাংশে এখান থেকেই নির্ধারিত হবে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘সংসদীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় পরিচালিত এ ধরনের কর্মসূচি সংসদ সদস্যদের কার্যকর অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মাধ্যমে জনপ্রত্যাশা পূরণে সহায়তা করছে।’ পরে তিনি বাজেট ডিব্রিফিং সেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার একটি বাস্তবমুখী ও যুগোপযোগী বাজেট উপস্থাপন করেছে। তার দাবি, স্বাধীনতার পর এমন ভালো বাজেট আর হয়নি।
তিনি বলেছেন, ‘বাজেট হেল্পডেস্ক সংসদ সদস্যদের প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একসময় বাজেট-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন ছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় এখন সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এবং বাজেটের গভীর বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
সভাপতির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, ‘স্বাধীনতার পর সংসদ নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী এই সংসদ একটি ব্যতিক্রমী সংসদ। দেশের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার মানুষ সংসদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।’
তিনি বলেছেন, ‘অর্থনীতি, সমাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হলো সংসদ। তথ্যনির্ভর সংসদ গড়ে তুলতে বাজেট ডিব্রিফিং সেশনের মতো উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা পালন করে।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া। এতে বিরোধী দলের নেতা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, হুইপরাসহ আমন্ত্রিত সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





