সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা মানবাধিকারের লঙ্ঘন
- সীমান্তে বিএসএফের ৩৬টি পুশইন চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি
- গত এক বছরে প্রায় ১,৯৮০ কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ
- অনলাইন জুয়া ঠেকাতে আসছে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬’

পুরনো ছবি
সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনগুলোয় বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে।’
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানালেন, সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা আলোচনা হয়নি। তবে সীমান্তে আত্মরক্ষার অজুহাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সবসময়ই আপত্তি জানিয়ে আসছে। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহির বিষয়টিও বিভিন্ন বৈঠকে উত্থাপন করা হয়েছে। সীমান্তে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।’
সিলেট-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত বিএসএফের পুশইন করা ২ হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে ২ হাজার ১৭৫ জনকে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে। ১১ জনকে বিএসএফের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং ১৮৩ জনকে পুশব্যাক করা হয়েছে।’
‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর বিএসএফের ৩৬টি পুশইন প্রচেষ্টা বিজিবি প্রতিহত করেছে।’—যোগ করেন তিনি।
পাবনা-৫ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান ঠেকাতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারত সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে।’
কুমিল্লা-৯ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশে আইস বা ক্রিস্টাল মেথামফেটামিনে আসক্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক। মাদক নিয়ন্ত্রণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি মিয়ানমার ও ভারত সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’
সংরক্ষিত নারী আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন বলেছেন, ‘গত এক বছরে ১ হাজার ৯৭৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এ সময়ে বিজিবি ১ কোটি ৮৩ লাখ ৭৭ হাজার ৪৩৬ পিস ইয়াবা, ৫৫ হাজার ৯০৮ বোতল ফেনসিডিল, ১৮ হাজার ৪৬৩ কেজি গাঁজা, ১ লাখ ৬ হাজার ৭০৯ বোতল বিদেশি মদ, ১৫ দশমিক ৫৭৭ কেজি আইস, ২ দশমিক ০৮ কেজি কোকেন এবং ৬২ বোতল এলএসডি উদ্ধার করেছে। এ সময় ২ হাজার ১৮৯ জনকে আটক করা হয়েছে।’
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সারা দেশে ৩০ হাজার ৭৪৪টি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে ৯ হাজার ২৫১টি মামলা হয়েছে এবং ৯ হাজার ৬৮৫ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় ১ মে থেকে দেশব্যাপী মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ অভিযান চলছে। ৮ জুন পর্যন্ত এ অভিযানে মাদকসংক্রান্ত ৭ হাজার ৬৮৮টি মামলায় ১০ হাজার ৮৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ১২৫টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং অস্ত্রসংক্রান্ত ঘটনায় ২৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
জামালপুর-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবুর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘ঢাকা মহানগরে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে ডিএমপি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। কিশোর গ্যাং সদস্যরা যেসব ফেসবুক পেজ, গোপন গ্রুপ ও টিকটক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে, সেগুলো ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখছে।’
তিনি জানিয়েছেন, র্যাব-২-এর আওতাধীন মোহাম্মদপুর এলাকায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ১১৯টি ছিনতাইবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২৫২ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশের ৭৫টি কারাগারের ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৩৬ জন। এর বিপরীতে বর্তমানে বন্দি রয়েছেন ৭৭ হাজার ৪০ জন। অর্থাৎ কারাগারগুলো ধারণক্ষমতার প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ বন্দির চাপ বহন করছে।’
সংরক্ষিত নারী আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা নিশিতার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘কারাবন্দিদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির লাভের ৫০ শতাংশ বন্দিদের দেওয়া হয়।’
সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানা রুমার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘অনলাইন জুয়া ও বেটিং সাইট বন্ধ এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ, বিটিআরসি, গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।’
তিনি জানান, অনলাইন জুয়া ও বেটিং অ্যাপের বিস্তার রোধ এবং এসব অবৈধ প্ল্যাটফর্ম বন্ধে সরকার ‘বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭’ রহিত করে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬’ নামে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।








