অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার তিন সদস্য
অনলাইন জুয়া পরিচালনা ও অবৈধ অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. সোলায়মান (৪৭), মো. সাগর মিয়া (২৮) এবং জুয়েল রানা (৩২)।
সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান। তিনি জানান, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে কমিশন কেটে রেখে বাকি অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাচার করা হতো বিদেশে।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, রোববার টাঙ্গাইলের কাগমারা ব্রিজসংলগ্ন একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে সোলায়মানকে গ্রেপ্তার করে সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয় সাগর মিয়া ও জুয়েল রানাকে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ওয়েবসাইটের কার্যক্রম শনাক্ত করে সিপিসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার সাইটের প্রচারণা চালানো হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলা এবং অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে অর্থের বিনিময়ে পরিচালিত হতো বেটিং।
এ ঘটনায় বেটিং সাইটে ব্যবহৃত বিভিন্ন এজেন্টের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহ করে সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করে। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শুরু হয় তদন্ত।
তদন্তে জানা যায়, অনলাইন বেটিংয়ে অংশ নিতে ব্যবহারকারীদের প্রথমে নির্দিষ্ট সাইটে একটি ওয়ালেট বা অ্যাকাউন্ট খুলতে হতো। এরপর বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ব্যাংক হিসাব কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ জমা দিতে উৎসাহিত করা হতো। জমাকৃত অর্থের বিপরীতে ব্যবহারকারীদের বেটিং অ্যাকাউন্টে ভার্চুয়াল ব্যালেন্স যুক্ত করা হতো, যা পরে ব্যবহৃত হতো জুয়ার কাজে।
সিআইডির তদন্তে আরও উঠে এসেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন বেটিংয়ের জন্য এজেন্ট নিয়োগ করতেন অভিযুক্তরা। এসব এজেন্টের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে সংগ্রহ করা হতো জুয়ার অর্থ। কমিশন কেটে রাখার পর অবশিষ্ট অর্থ বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেল ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে পাচার করা হতো বিদেশে।
জসীম উদ্দিন খান উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে অনলাইন বেটিংয়ে ব্যবহৃত এজেন্ট সিম ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। চক্রটি অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে এজেন্ট সিম ও হিসাব সরবরাহ করত, যা ব্যবহৃত হতো অনলাইন জুয়ার অর্থ জমা ও উত্তোলনে।
তার ভাষ্য, সোলায়মান অর্থের বিনিময়ে নিজের এজেন্ট সিম সাগর মিয়ার কাছে সরবরাহ করতেন। সাগর মিয়া ও জুয়েল রানা এমএফএসের ডিস্ট্রিবিউটর সেলস অফিসার (ডিএসও) হিসেবে কমিশনের বিনিময়ে বিভিন্ন এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে জুয়ার সাইটে সরবরাহ করতেন।
সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।




