সংসদে প্রধানমন্ত্রী
বিদেশি বিনিয়োগ আনলে ১.৫% প্রণোদনা
- ৫ লাখ কর্মচারী নিয়োগ দেবে সরকার
- বিতরণ করা হবে ই-হেলথ কার্ডও
- ৬০ হাজার ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সরকার পাঁচ লাখ কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি শূন্যপদ পূরণের এই প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা হবে— সেটিও যোগ করলেন তিনি। গতকাল বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রীর কথায় উঠে এলো— কেউ বিদেশি বিনিয়োগ আনলে তাকে ওই বিনিয়োগের অর্থের ওপর ১ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার কথা। এ ছাড়া সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মতো বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকায়ও সমানভাবে উন্নয়নকাজ করা হবে বলেও সংসদকে জানালেন তিনি।
গতকাল বেলা ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। যার প্রথম ৩০ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব। সেখানে সরকারি খালি পদ নিয়ে কুমিল্লা-৯ আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য আবুল কালামের ছিল একটি সম্পূরক প্রশ্ন। যার জবাবে তারেক রহমান বললেন, ‘সরকারের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন পদ খালি আছে, যেগুলো আরও গতিশীল করার জন্য, দেশের মানুষকে আরও সহজে সুবিধাজনকভাবে সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কতগুলো নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। যত দ্রুত সম্ভব আমরা এসব পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করব ইনশা আল্লাহ।’
পাবনা-৫ আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের অনুপস্থিতিতে তার তারকাচিহ্নিত প্রশ্ন উত্থাপন করেন পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব। জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘সরকার পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থাগুলোয় শূন্যপদের বিপরীতে ২ হাজার ৮৭৯ জন নিয়োগের কার্যক্রম চলমান।’
সরকার সমউন্নয়নে বিশ্বাসী বলে সংসদকে জানান প্রধানমন্ত্রী। মাদারীপুর-২ আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা তাকে জানিয়েছিলেন— ঈদের আগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, বিরোধী দলের কিছু কিছু সদস্য তা পাননি। তিনি বৈঠক থেকে বের হয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেন, যেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য কেউ বরাদ্দ না পেয়ে থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তারেক রহমান আরও বললেন, ‘এটার মাধ্যমে বোঝাতে চাইছি, বর্তমান সরকার দেশের সমউন্নয়নে বিশ্বাস করে। সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা যেভাবে এলাকার উন্নয়ন করবেন, ঠিক একইভাবে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের জন্যও সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে। তাদের এলাকায়ও আমরা সমানভাবে কাজ করার চেষ্টা করব।’
সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘তিন-চার দিন আগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিদেশি বিনিয়োগ ইস্যুতে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদি কোনো বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিক বিদেশি বিনিয়োগ দেশে নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে তাদের বিনিয়োগের ১ দশমিক ৫ শতাংশ পরামর্শক ফি বা কমিশন দেওয়া হবে। তাদের প্রণোদনা দেওয়া হবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রণোদনার ফলে বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও দেশে বিনিয়োগ করবেন। এর বাইরেও মেধা ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে সক্ষম হবেন।
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব কেন সংরক্ষিত আসনের সরকারদলীয় নারী এমপিদের দেওয়া হয়েছে, সংসদে এর ব্যাখ্যাও দেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, ‘নারী সংসদ সদস্যদের সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্টভাবে কোনো আসন নেই। স্বাভাবিকভাবেই আমরা আমাদের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক যে কাঠামো, এর ভিত্তিতে দলীয় অবস্থান থেকে কিছু জায়গা তাদের জন্য নির্দিষ্ট করেছি, তারা কোথায় কাজ করবেন। নির্বাচনী এলাকায় একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার যেমন সম্পূর্ণ হক আছে, নারী সংসদ সদস্যদেরও একই রকমভাবে হক আছে। স্বাভাবিকভাবেই সরকারের যে নিয়ম আছে, সে নিয়ম অনুযায়ীই এগোচ্ছেন তারা।’
ওই সদস্যের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘আপনার এলাকার উন্নয়নের কোনো বিষয়ে যদি আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকে, জানাবেন। আমি সরাসরি আপনাকে সহযোগিতার চেষ্টা করব।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত ৬০ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। কৃষক কার্ড পেয়েছেন ২০ হাজার ৭৪৮ জন। শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহার/প্যাগোডা এবং ৩৯৬টি গির্জায় কর্মরত ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
৪৩ দেশে ২ লাখের বেশি শান্তিরক্ষী: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা এবং মানবতার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় থাকবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে গতকাল সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ পর্যন্ত দেশের সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর ২ লাখেরও বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি মিশনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানেও প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০টি শান্তিরক্ষা মিশনে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।




