বিএনপি কি একদলীয় শাসনের পথে? প্রশ্ন আখতারের

নসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন
জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নির্বাচনী এলাকায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, বিরোধী দলের আসনগুলোয় সরকারদলীয় সংরক্ষিত নারী এমপিদের সক্রিয় ভূমিকা দেওয়ার মাধ্যমে বিএনপি কোনো ধরনের একদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে কি না।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিতে গিয়ে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এ প্রশ্ন তোলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
এর আগে প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্ন করার সময় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জীবা আমিনা খান জানান, তিনি সম্প্রতি অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকা হিসেবে পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর সফর করেছেন। ওই সফরে স্থানীয় হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জনবল সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিষয়টি সামনে এনে আখতার হোসেন বললেন, সংরক্ষিত আসনের একজন সংসদ সদস্য যখন কোনো নির্দিষ্ট এলাকাকে নিজের ‘অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত’ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করেন, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তার দাবি, ওই এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছ থেকে এমন বক্তব্যও শোনা গেছে যে, নির্বাচিত সংসদ সদস্যের চেয়ে সংরক্ষিত আসনের এমপিই সেখানে কার্যত বেশি ক্ষমতাবান।
তিনি বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এর আগে জানানো হয়েছিল সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের কাউকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। কিন্তু সংসদে একজন সদস্য নিজেই অতিরিক্ত দায়িত্বের কথা বলেছেন। ফলে প্রকৃত অবস্থা কী, সেই দায়িত্বের সাংবিধানিক ভিত্তি কতটুকু এবং এর সীমারেখা কোথায়— তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
আখতারের ভাষ্য, বিশেষ করে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব করা আসনগুলোয় সংরক্ষিত নারী এমপিদের সক্রিয় করা হলে রাজনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি সরকারের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দাবি করেন।
পরে ডেপুটি স্পিকারের আহ্বানে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বললেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের জন্য কোনো পৃথক ভৌগোলিক নির্বাচনী এলাকা নেই। সংবিধান অনুযায়ী তারা পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে ৩০০টি সাধারণ আসনের পাশাপাশি ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের বিধান রয়েছে। সাধারণ আসনের সদস্যরা নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা থেকে নির্বাচিত হলেও সংরক্ষিত নারী সদস্যদের ক্ষেত্রে এমন কোনো সীমানা প্রযোজ্য নয়।




