সংসদে নৌপরিবহনমন্ত্রী
লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল চুক্তি বাতিল বা পুনঃআলোচনার পরিকল্পনা নেই

নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের পরিচালনা বেসরকারি খাতে দেওয়ার (আউটসোর্সিং) চুক্তি বাতিল বা পুনঃআলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই সরকারের।
তিনি বলেছেন, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর এপিএমটি বিভির অনুকূলে লেটার অব অ্যাওয়ার্ড জারি করা হয় এবং একই দিন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও এপিএমটি বিভির মধ্যে কনসেশন (ছাড়পত্র) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে এটি ৩৩ বছরের চুক্তি। এর মধ্যে তিন বছর নির্মাণকাল এবং ৩০ বছর পরিচালনাকাল। পরে আরও ১৫ বছর বাড়ানো হবে।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী এ সব তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
নৌপরিবহনমন্ত্রী বললেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের খালি জায়গায় এই নতুন টার্মিনাল নির্মিত হচ্ছে। এটি চালু হলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং টেকনোলজি ট্রান্সফারের সুযোগ তৈরি হবে। ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি এ প্রকল্পে ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। তাই এ চুক্তি বাতিল বা পুনঃআলোচনার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।’
তিনি যোগ করেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়নাধীন ‘পিপিপি মডেলের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল স্থাপন ও পরিচালনা’ শীর্ষক প্রকল্পের কনসেশন চুক্তি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) আইন, ২০১৫, সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) অংশীদারত্বের মাধ্যমে পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০১৭ এবং পিপিপি প্রকল্পের ক্রয় নির্দেশিকা, ২০১৮ অনুযায়ী সম্পাদিত হয়েছে।
মন্ত্রী বলছিলেন, সরকারি সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছতার সঙ্গে এ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এটি বাংলাদেশ সরকার ও ডেনমার্ক সরকারের মধ্যে একটি সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পিপিপি চুক্তি। কর্ণফুলী নদীর ডান তীরের লালদিয়া চর এলাকায় পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে তুলতে ২০২১ সালের ৩০ জুন বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য এপিএম টার্মিনালসের মাধ্যমে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ২১ মে ডেনমার্কভিত্তিক মার্স্ক লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করে এবং একটি প্রস্তাব জমা দেয়।
পরে ২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির প্রথম পিপিপি জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ-ডেনমার্ক পিপিপি জয়েন্ট প্ল্যাটফর্মের প্রথম সভায় ডেনমার্ক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয়। সবশেষে ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির (এসিইএ) অনুমোদন এবং ১৬ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন পাওয়ার পর প্রকল্পটির কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় বলে জানান নৌপরিবহনমন্ত্রী।




