শেষ হলো ৯ দিনব্যাপি রথযাত্রা মহোৎসব

শেষ হলো ৯ দিনব্যাপি রথযাত্রা মহোৎসব
খোল-করতালের ছন্দ, হরিনাম সংকীর্তনের ধ্বনি আর হাজারো ভক্তের জয়ধ্বনিতে আজ শুক্রবার রাজধানীতে উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা। এর মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলো ৯ দিনব্যাপি রথযাত্রা মহোৎসব।
উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ-ইসকন বাংলাদেশ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির যৌথ উদ্যোগে দুপুরে চকবাজারের ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের সব ধর্মাবলম্বী নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করেন। দেশের সংবিধানে ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য বা বিভেদের কোনো সুযোগ নেই। যারা ধর্ম বা রাজনীতির নামে বিভেদ সৃষ্টি করতে চান—তারা দেশ, ধর্ম ও সৃষ্টিকর্তার শত্রু। নিজ নিজ ধর্ম পালনের পাশাপাশি অন্যের বিশ্বাসকে সম্মান করাই একটি শান্তিপূর্ণ সমাজের ভিত্তি।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেছেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। যারা এই সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়, তারা প্রকৃত অর্থে দেশের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না।
মীবাগ আশ্রমের অধ্যক্ষ ও ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিতাই স্বামী মহারাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন—ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব, ইসকন বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিমলা প্রসাদ দাস প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে বিকেল ৩টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য উল্টো রথ শোভাযাত্রা। তিনটি সুবৃহৎ রথে অধিষ্ঠিত করা হয় শ্রীশ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা দেবীকে। পলাশী মোড়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাতীয় প্রেস ক্লাব, শাপলা চত্বর, টিকাটুলি ও দয়াগঞ্জ হয়ে শোভাযাত্রাটি ইসকন স্বামীবাগ আশ্রমে গিয়ে শেষ হয়।
পথজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। নারী, পুরুষ, শিশু থেকে প্রবীণ, নানা বয়সী হাজারো মানুষ শোভাযাত্রায় অংশ নেন। কেউ রথে ফুল অর্পণ করে প্রার্থনা করেন, কেউ আবার রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বর্ণিল আয়োজন উপভোগ করেন। খোল-করতালের তালে তালে ভক্তদের নৃত্য, ভজন আর সংকীর্তনে পুরো পরিবেশ হয়ে উঠেছিল প্রাণবন্ত ও আধ্যাত্মিক আবহে ভরপুর।
এর আগে গত ১৬ জুলাই রথযাত্রা মহোৎসবের সূচনা হয়। বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উৎসবের সূচনা করেছিলেন। সেদিন স্বামীবাগ আশ্রম থেকে রথযাত্রা শুরু হয়ে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়েছিল।






