৯ বিষয়ে ঐকমত্য
- শ্রমবাজার, বিনিয়োগ, শিক্ষা, পর্যটন, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানিতে গুরুত্ব
- এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, দুই দলিল বিনিময়
- মালয়েশিয়ায় ১৮ ঘণ্টার সফর শেষে চীনে প্রধানমন্ত্রী

তারেক রহমান-আনোয়ার ইব্রাহিম বৈঠক
মালয়েশিয়ায় ১৮ ঘণ্টা কর্মব্যস্ত সময় পার করে চীনে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল ব্যস্ত এ সূচির মধ্যে তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে। প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় এ বৈঠকে দুই রাষ্ট্রনেতা শ্রমবাজার, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ ৯টি বিষয়ের ৩৩ পয়েন্টে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছেন। স্বাক্ষরিত হয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমনে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা-সংক্রান্ত একটি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে একটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করেছেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আসেন দুই প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানান তারেক রহমান। তিনি বললেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি। আমরা একমত হয়েছি যে, শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের ব্যয় হ্রাস পায়।’
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মালয়েশিয়া সফরের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বললেন, ‘মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।’
‘আলোচনা ফলপ্রসূ’ হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বললেন, ‘মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়াসহ বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছি। আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছি এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ এ সময় মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি মোহাম্মদ হাসান, মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর রামানান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব দাতো শাহরোল আনুয়ার বিন সারমান এবং সেক্রেটারি জেনারেল তান শ্রী আমরান মোহাম্মদ জিন।
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উদ্যোগে কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি লা হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর এ ঐতিহাসিক সফরে বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খাতগুলো হলো— রাজনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, এআই এবং সেমিকন্ডাক্টর খাত, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ ও তাদের কল্যাণে সহযোগিতা, শিক্ষা ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা, জ্বালানি খাত, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সহায়তা সম্প্রসারণ। ৯টি বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই দেশের সম্মতিতে ৩৩টি পয়েন্টে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। দুই দেশ মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে শিল্প ও ব্যবসা খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে নতুন কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। একই সঙ্গে হালাল শিল্প ও হালাল ব্যবসার সম্ভাবনার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয় বৈঠকে। এ খাতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে হালাল পণ্য, সনদ প্রদান ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল তৈরি এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই সরকারপ্রধান।
এ ছাড়া জ্বালানি খাতে এলএনজি, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি বললেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন, আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিতে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
‘এই সফর শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়; এটি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক অধ্যায় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দিগন্তের সূচনা। মাত্র ১৮ ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত ফলপ্রসূ সফরে যে আলোচনা, সমঝোতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, তা আগামী দিনে দুই দেশের জন্য বহুমাত্রিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে’— যোগ করেন মাহদী আমিন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি ও মালয়েশিয়ার ডেপুটি হাইকমিশনার শাহানারা মলিকা উপস্থিত ছিলেন।
আরও বৈঠক: প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত এই সফরে বাংলাদেশে বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার পাঁচটি শীর্ষ কোম্পানির নির্বাহী প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে—পেট্রোনাস, আজিয়াটা, এয়ারএশিয়া, পারডুয়া এবং এমএমসি পোর্ট।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইবনে আলমারহুম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় সময় দুপুরে রাজপ্রাসাদ ইস্তেনায় রাজার সঙ্গে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতের সময় রাজার স্ত্রী রানী রাজা জারিথ সোফিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ডা. জুবাইদা রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী দাতুক সেরি ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইলের সঙ্গে বেশ কয়েকটি পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এর আগে সকাল ৯টায় শাংগ্রি লা হোটেল থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান আসেন পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনে। সেখানে প্রথমেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এবং তার সহধর্মিণী দাতুক সেরি ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল। এরপর লালগালিচায় তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানকে মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার দেয়। এ সময় মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। তারেক রহমান গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন। এরপর আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভবনে প্রবেশপথে পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন তারেক রহমান। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম লিফটের পঞ্চমতলায় যান এবং দুই প্রধানমন্ত্রী একান্ত বৈঠকে মিলিত হন।
এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর ভবন অভিমুখে লম্বা সড়কের দুইপাশে টানানো হয় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা। প্রধানমন্ত্রী ভবনের সামনে পুত্রজায়া মাদানি স্কয়ারে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের পতাকা সারিবদ্ধভাবে উত্তোলন করা হয়। পুত্রজায়ায় বিলবোর্ডে তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের ছবিও শোভা পায়।
একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজ দেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। দুপুরে পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বাসভবনে এই মধ্যাহ্নভোজ হয়। মধ্যাহ্নভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। এরপর সেখানে মালয়েশিয়ার শিল্পীদের পরিবেশনায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে স্কুলের শিক্ষার্থীরা ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার, শেষ বাংলাদেশ’ গানটি পরিবেশন করে। দুই প্রধানমন্ত্রীসহ তাদের সহধর্মিণীরা এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান ভবন থেকে নেমে এলে প্রবেশপথের দুই পাশে মালয়েশিয়ার শিশু-কিশোররা বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা হাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানায়। তারা শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের শুভেচ্ছা জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির সামনে এসে আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার সহধর্মিণী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণীকে বিদায় জানান।
মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনে প্রধানমন্ত্রী: মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সফর শেষ করে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে তিনি দালিয়ান রওনা হন। স্থানীয় সময় রাত ১০.৫৫ মিনিটে দালিয়ান পৌঁছান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানিয়ে বললেন, চীনে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরের মূল কর্মসূচি সেখানে শুরু হবে। দালিয়ানে বিশ্ব আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৬ জুন বৈঠক করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে।




