জ্বালানিমন্ত্রী
জ্বালানি খাত স্থিতিশীল করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নাগরিক সংলাপে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ছবি : আগামীর সময়
জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের আর্থিক অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে দক্ষ, স্বচ্ছ ও টেকসই ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া আর্থিক বিশৃঙ্খলা সামাল দিয়ে দেশের জ্বালানি খাতকে একটি স্থিতিশীল অবস্থানে নিয়ে আসাই বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
আজ সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে এসব কথা বলেছেন জ্বালানি মন্ত্রী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা ঋণ নিয়ে ঋণ শোধের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে চাই। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নেও সরকারের বিপুল অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রতিটি খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি।’
তার অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের সময় প্রয়োজনীয়তা যাচাই না করেই বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, রুরাল এডুকেশন বোর্ডে পাঁচ লাখ স্মার্ট মিটার স্থাপন করা হয়েছিল, যার খুব প্রয়োজন ছিল না।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে একটি ‘ব্যবসায়িক মন্ত্রণালয়’ উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে সামান্য ব্যত্যয়ও বড় সংকট তৈরি করতে পারে। তাই এ খাতে সব সময় সতর্ক থাকতে হয়।
বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে জনঅসন্তোষের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, সরকারকে বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হয়, ফলে সব সিদ্ধান্ত ইচ্ছেমতো নেওয়া সম্ভব হয় না।
বিনিয়োগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেছেন, বিদ্যুৎ বিতরণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। সরকার বিদ্যুৎ কিনবে, কিন্তু বড় বিনিয়োগ করবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, কৃষিজমি নষ্ট করে কোনো বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকারের নেই। বরং পতিত জমিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলা হবে। সৌর প্যানেলের নিচেও কৃষিকাজ সম্ভব এবং ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য বাস্তবসম্মত।
গ্যাসের স্মার্ট কার্ড প্রকল্পের তিনটি প্রকল্প বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেছেন, যেখানে পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ নেই এবং বিগত সরকারের আমলে নতুন গ্যাস উত্তোলন হয়নি, সেখানে নতুন লাইন নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবসম্মত নয়। একইভাবে শতভাগ বিদ্যুতায়নের সময় নেওয়া কিছু অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ লাইনও পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, গ্রামীণ এলাকায় অনেক লোডশেডিং মূলত কারিগরি ত্রুটির কারণে হচ্ছে এবং এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ শিল্প ও আবাসিক খাতে ডিজিটাল বিদ্যুৎ মিটার ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেছেন, ডিজিটাল মিটার ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়বে, অপচয় কমবে এবং সেবার মান উন্নত হবে।
এ সময় উন্নয়ন ও পরিবেশকর্মী আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, জ্বালানি খাতসহ জাতীয় পর্যায়ের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সরকারকে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও কার্যকর, গ্রহণযোগ্য এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট হবে।



