ড. মাহবুব উল্লাহ
৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের নেতা থেকে জাতীয় অধ্যাপক

ড. মাহবুব উল্লাহ
জাতীয় অধ্যাপক পদে নিয়োগ পেয়েছেন প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ। বাংলাদেশ জাতীয় অধ্যাপক নীতিমালা ২০২৩ অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরের জন্য এ পদে থাকবেন তিনি। আজ সোমবার বিকালে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ড. মাহবুব উল্লাহ জন্মছিলেন ৯ ডিসেম্বর ১৯৪৫ সালে। নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জের তিতাহাজরা গ্রামে। তিনি ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের বিপ্লবী নেতা। ১৯৭০ সালে ইয়াহিয়া খানের সামরিক আদালতে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে দীর্ঘ ২২ মাস অন্তরীণ ছিলেন। ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর কারাগার থেকে মুক্তি পান।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আতাউর রহমান খান, হাজী মোহাম্মদ দানেশ, মোহাম্মদ তোয়াহা, কমরেড আবদুল হক, কমরেড সুখেন্দু দস্তিদার, কমরেড দেবেন সিকদারের সাহচর্য পেয়েছেন।
১৯৭২ সালে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই ইংরেজি ও বাংলা সংবাদপত্রে লেখালেখি করেছেন। জাতীয়তাবাদী চিন্তা-ভাবনার আর্থ-সামাজিক, ঐতিহাসিক ও দার্শনিক ভিত্তি নির্মাণ তার লেখালেখির মূল উপজীব্য।
১৯৭৬ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। ২০০৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে নিয়োজিত থেকে অবসরে যান। পরে ওই বিভাগের প্রফেসর ও সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন।
তিনি রাজস্ব সংস্কার কমিশনের সদস্য ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রির অধিকারী মাহবুব উল্লাহ্ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় ও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা করেছেন। এছাড়া তিনি কানাডার ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার, ডেনমার্কের সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ, নেপালের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইনটিগ্রেটেড মাউন্টেইন ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং ইউনাইটেড ন্যাশনস ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় গবেষণা কাজ করেছেন।
বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় তার একাধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘পূর্ব বাংলার বাম ও কমিউনিস্ট আন্দোলন ১৯৪৭-১৯৭১: সাফল্য ও ব্যর্থতা’, ‘যে কথা বলতে চেয়েছি : সরাসরি’, ‘Globalisation and Beyond’, ‘Bangladesh Economy’, ‘আমার জীবন আমার সংগ্রাম’, ও ‘অর্থনীতি চলতি প্রসঙ্গ-২’।
এর আগে ২০২১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাবেক উপাচার্য ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীনকে জাতীয় অধ্যাপক করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ জাতীয় অধ্যাপক সিদ্ধান্তমালা, ১৯৮১ অনুযায়ী তখন তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে জাতীয় অধ্যাপক নিয়োগ করা হয়। বাকি দুজন ছিলেন ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বারডেম) সভাপতি ডা. একে আজাদ খান এবং বাংলাদেশ গ্যাস্ট্রোএনটারোলজি সোসাইটি ও গ্যাস্ট্রোলিভার ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান।





