মাহদী আমিন
প্রমাণের অভাবেই প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবেদন সরিয়ে নিয়েছে টেলিভিশন চ্যানেল

ড. মাহদী আমিন
উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল প্রশ্নপত্র ফাঁস-সংক্রান্ত তাদের প্রতিবেদন সরিয়ে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। একই সঙ্গে সরকার প্রশ্নপত্র বিতরণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করছে বলেও জানান তিনি।
আজ রবিবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা উল্লেখ করেন।
ড. মাহদী লিখেছেন, সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন তাদের প্রতিবেদনে যে বিষয়টি প্রশ্ন ফাঁস হিসেবে উপস্থাপন করেছিল, তা বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে। এটি প্রকৃতপক্ষে একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণা চক্রের কাজ। নির্ভরযোগ্য প্রমাণ না থাকায় চ্যানেলটি নিজ দায়িত্বে প্রতিবেদনটি সরিয়ে নেয়।
ড. মাহদী আমিনের ভাষ্য, এক পরীক্ষার্থীর বর্ণনায় দেখা যায়, প্রতারকরা রাতে প্রশ্ন দেওয়ার কথা বলে নানা অজুহাত দেয়। যেমন ‘টেকনিক্যাল সমস্যা’ বা ‘অল্পক্ষণ পর দেওয়া হবে’ ইত্যাদি। অথচ পরদিন তারা দাবি করে, আগেই প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়েছিল। এতে বোঝা যায়, তাদের কাছে বাস্তবে কোনো প্রশ্নই ছিল না। পুরো বিষয়টি ছিল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল।
এ ধরনের গুজব ও অপপ্রচার রোধে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি জানান, প্রশ্নপত্র বিতরণে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জোরদার করা হয়েছে সাইবার নজরদারি ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং। কেউ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অপতৎপরতা চালালে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করে আনা হবে আইনের আওতায়।
এদিকে, প্রতারণা চক্রের চার সদস্যকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। গত ২৫ এপ্রিল ঢাকার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তাররা অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের উদ্দেশ্যে একটি সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি তারা প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি, উদ্বেগ ও হতাশা তৈরির অপচেষ্টা চালায়।
গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ড. মাহদী বলেছেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস করা উচিত নয়। সমালোচনাও হতে হবে তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষা খাতকে উন্নত ও সুশৃঙ্খল করতে সরকার নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে সবার সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি।

