সীমান্তে সাড়ে ৯ মাসে ১২৭৫ জনের অনুপ্রবেশ ঠেকানো হয়েছে : বিজিবি

ছবি: আগামীর সময়
দেশের ২৩টি সীমান্তবর্তী জেলায় সাড়ে ৯ মাসে ১৮২টি পুশইনের ঘটনায় ১ হাজার ২৭৫ জনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
আজ শুক্রবার বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।
বিজিবির পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এসব ব্যক্তি অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সীমান্তে জোরপূর্বক লোক প্রবেশ করানোর অপচেষ্টা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা, সংযম ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে বাহিনীটি। এ ধরনের অপচেষ্টা ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
মাহবুব মুর্শেদ বললেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় যেকোনো পর্যায়ে অবৈধ চাপ বা অপতৎপরতা মোকাবিলায় বিজিবি কোনো আপস করবে না। প্রচলিত আইন, বিধিবিধান ও নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণ করে বাহিনীটি দায়িত্ব পালন করছে।
‘সীমান্তের নিরাপত্তা আরও কার্যকর করতে আধুনিক নজরদারি সরঞ্জাম, দিন ও রাতের পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে বিজিবি’, যোগ করেন তিনি।
অবৈধ অস্ত্র ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান
বিজিবির এ পরিচালক বলেছেন, সীমান্তে পুশইন প্রতিহত করার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য চোরাচালানবিরোধী অভিযানও জোরদার করেছে বিজিবি। চলতি বছরের বিভিন্ন অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৮টি পিস্তল, সাতটি রাইফেল, একটি সাবমেশিনগান (এসএমজি), সাতটি গ্রেনেড, ১২টি মাইন এবং ৩ হাজার ২০০ রাউন্ডের বেশি গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া মাদক, অস্ত্র ও অন্য চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে প্রায় ১ হাজার ৯৫৭ জনকে আটক করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে মাদকদ্রব্য, স্বর্ণ, বস্ত্র ও প্রসাধনসামগ্রী। এসব অভিযান দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং বৈধ বাণিজ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মাদকদ্রব্য প্রতিরোধ অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে বিজিবি জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ পিসের বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট, প্রায় ৪০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ, প্রায় ১২ কেজি হেরোইন ও কোকেন, প্রায় ১৬ হাজার কেজি গাঁজা, প্রায় ২৪ হাজার বোতল ফেনসিডিল এবং প্রায় ১ লাখ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, মাদকের প্রতিটি চালানের সঙ্গে তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের শান্তি ও নিরাপত্তা জড়িত। এ উপলব্ধি থেকেই মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বাহিনীর সদস্যরা দিনরাত দায়িত্ব পালন করছেন।



