রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যাবে, আশাবাদী প্রতিমন্ত্রী

শামা ওবায়েদ ইসলাম। ফাইল ছবি
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
আজ রবিবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত সংলাপে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) ও অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ ‘রোহিঙ্গা সংকটের এক দশক: মানবিক সহায়তা থেকে টেকসই সমাধানের দিকে’ শীর্ষক সংলাপটি আয়োজন করেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফলভাবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করেছিল। সেই অভিজ্ঞতাও এবার কাজে লাগানো হবে।
শামা ওবায়েদ বলেছেন, ১০ বছর কোনো সরকারের জন্য একটি নীতিনির্ধারণী সময়কাল হলেও শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠা একটি শিশুর জন্য এটি তার পুরো শৈশব। একজন তরুণের জন্য এটি শিক্ষার সুযোগ হারানোর সময়। একটি পরিবারের জন্য দীর্ঘ এক দশক গৃহহীন থাকার সময়। একটি জনগোষ্ঠীর জন্য এটি অনিশ্চয়তার মধ্যে বেড়ে ওঠা একটি প্রজন্ম।
তিনি আরও বললেন, ‘এই ১০ বছরকে আমরা যেন ৫০ বছরে পরিণত হতে না দিই। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই আমাদের মূল লক্ষ্য। একটি শরণার্থী শিবির কখনোই মানুষের নিজের জন্মভূমির স্থায়ী বিকল্প হতে পারে না।’
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তার মতে, যে সংকট বাংলাদেশ সৃষ্টি করেনি, সেটির সমাধান বাংলাদেশ একা করতে পারে না। বাংলাদেশ আশ্রয়, মানবিক সহায়তা এবং রোহিঙ্গাদের মর্যাদা রক্ষায় সহযোগিতা করতে পারে।
রোহিঙ্গাদের ব্যাপক অনুপ্রবেশের সময় ২০১৭ সালে বাংলাদেশ মানবিক পরিস্থিতিতে সাড়া দিয়েছিল। বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে।






