নতুন করে আলোচনায় ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলবরা

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমেদ এবং ওই সময়ের সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের একতরফা সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জারি হয় জরুরি অবস্থা। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আবরণে গঠিত হয় সেনা নিয়ন্ত্রিত ‘অন্তর্বতীকালীন সরকার’। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে পরবর্তীতে এটিকে ওয়ান-ইলেভেন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।
সেই সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ কুশীলব আলোচিত সেনা কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত তিন তারকা জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর বারিধারার ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আলোচিত এই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান ডিআইজি শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার একটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আমরা তাকে গ্রেপ্তার করেছি। তার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে।
তবে সেসব মামলার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিভাবে জানাতে পারেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।
ওয়ান-ইলেভেনের বিতর্কিত ভূমিকার পর মাসুদ উদ্দিন টানা ছয় বছর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি ২০১৮ সালে জাতীয় পার্টির হয়ে সংসদ সদস্য হন। পরে ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনেও তিনি একই আসনে নির্বাচিত হন এবং সে বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই সেই সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাকিদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন সদ্য প্রয়াত খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার, ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে অর্থ আদায়সহ নানা গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
এত অভিযোগের পরও ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলবদের কাউকেই বাংলাদেশের কোনো আইনি প্রক্রিয়া মোকাবিলা করতে হয়নি। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তারা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন। নির্বিঘ্নে নিজেদের মতো করে জীবিকা নির্বাহ করে চলেছেন।
সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ এবং ওই সময়ের সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদসহ বিভিন্ন উপদেষ্টা কোথায় আছেন, কী করছেন, কেন আর দেশে আসেন না তা নিয়ে রয়েছে নানা জল্পনা।
বেশিরভাগ পর্যবেক্ষকের ধারণা, আইনি ঝামেলা থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখার জন্য তারা প্রবাস জীবন বেছে নিয়েছেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর সরকার ওয়ান-ইলেভেনের মধ্য দিয়ে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারে কার কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানায়। তখন এই সরকারে যুক্ত সবাই একে একে দেশত্যাগ করেন।
এদের মধ্যে ফখরুদ্দীন আহমদ ও মইন ইউ আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানেই আছেন। সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) চৌধুরী ফজলুল বারীও আছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে।
ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কর্মকর্তা হিসেবে দোর্দণ্ড প্রতাপে ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন। তিনি কয়েক বছর ধরে দুবাইয়ে চাকরি করছেন বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন সূত্রমতে, তিনি ও ডিজিএফআইয়ের আরেক ক্ষমতাধর মেজর জেনারেল (অব.) সাঈদ জোয়ার্দার দুবাই-কানাডা যাওয়া-আসার মধ্যে আছেন।




